আত্মোপলব্ধিঃ প্রসঙ্গ পহেলা বৈশাখ-আলেমদের ভূমিকা

 

বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের অনেক আলেমদের মধ্যে বোধদয় হয়েছে যে পহেলা বৈশাখের নিম্নোক্ত বিষয়গুলো ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলীর ষ্পষ্ট সাংঘর্ষিক, যা ইসলামে কোনভাবে অনুমোদিত নয়।

ক. মঙ্গল শোভাযাত্রা
খ. রমনা বটমূলে বৈশাখীবরন যেখানে সূর্য ওঠার জন্য অপেক্ষা করা হয়
গ. শরীরে উল্কি আঁকা
ঘ. অবাধ মেলামেশা করা
ঙ. লাল-সাদা পোষাক পরিধান
চ. অতিরিক্ত মাত্রায় অপচয়
ছ. গরীবের সাথে উপহাস করা।

উপরোক্ত বিষয়গুলোর ইসলামের ব্যাখ্যা সামাজিক মাধ্যমে আমরা জেনে গেছি। আজকের আলোচনার বিষয় সেটা নয় বরং এ সংক্রান্ত বিষয়ে আলেমদের ভূমিকা নিয়ে। আমাদের তথাকথিত আলেমসমাজের অবস্থা হল চোর-মালিকের গল্পের মত। মালিক ভাবে দেখি চোর-বেটা কী করে, ভাবতে ভাবতে চোর সব নিয়ে যায়। তেমনি আলেমরা যখন চৌতন্য ফিরে পান, তখন সব হালাক হয়ে যায়। ওনারা নিজেদের সমগোত্রীয়দেরকে কাফের, ইহুদীদের দালাল, ফাসেক ইত্যাদি ফতোয়া নিয়ে ব্যস্ত। একজন আর একজনের চোর, মূর্খ, গোবর-গণেষ, ইসলামের দুশমন ইত্যাদি অবিধায় উপস্থাপন করতে থাকে। এর মাঝে যে নিজেদের প্রকৃত শত্রুরা ধাঁই ধাঁই করে নিজেদের এজেন্ডা নিয়ে সম্মুখপানে এগিয়ে যায়, সেই হুঁশ তানাদের থাকে না।

ভারতীয় উপমহাদেশ যেমন বীর পুরুষদের জন্মস্থল তেমনি গাদ্দারও কম জন্ম দেয়নি এই ভূমি। আবুল ফজলের মত দরবারী চাটুকার আলেম যেমন ছিল এ মাটিতে, তেমনি মুজাদ্দিদে আলফেসানীর মত ক্ষণজন্মা পূরুষও এই মাটি জন্ম দিয়েছে। রাজন্যবর্গের অনুকম্পা লাভের জন্য পদলেহী আলেম যেমন ছিল ভরিভরি, আবার রাজন্যবর্গের রক্ত-চক্ষু উপেক্ষা করে জেলের জিনজিরও স্বহাস্যবদনে অনেকে গলায় পরে নিয়েছেন, কিন্তু ইসলামের কোন বিষয়ে আপোষ করেননি। এ উপমহাদেশের আলেমরা ফতোয়াবাজীতে যথেষ্ট এগিয়ে আছেন। মুখে আসলে যেমন যে কাউকে কাফের বলতে কার্পণ্য করেননা আবার হালুয়া-রুটি পাওয়ার জন্য শাসকের শরীয়া পরিপন্থী কাজকে জায়েজ করতে বিন্দুমাত্র সময়ও নেন না।

আচ্ছা, সমাজে প্রচলিত একটা বিষয়কে আপনি হারাম ঘোষণা করলেন। খুব ভাল কথা। কিন্তু সেই হারামে নিবিষ্ট মানুষকে হারাম থেকে ফিরিয়ে আনার আপনার বিকল্প কোন প্রচেষ্টা আছে কী? না-কি হারাম ঘোষণা করে কেল্লাফতে? বুভুক্ষ মানুষের মুখ থেকে খাবার কেড়ে নিবেন ভাল কথা, কিন্তু তার বিকল্প তাকে কিছু না দিলেতো সে আপনার ইহকালীন জীবন সাঙ্গ করে দিবে। সে ভাবনা কি আছে আপনাদের? বিয়ের প্রথম রাতে বিড়াল মারলে হয়তো এত বাড় বাড়তো না। কিন্তু আপনি লাই দিয়ে তাকে যে নিয়ন্ত্রণহীন করেছেন সে উপলব্ধি কি আপনার হয়? সাগরের পানি অনেক গড়িয়ে গেছে। অনেক কিছু আপনাদের নিয়ন্ত্রণে আর নেই। আপনারা জাকির নায়েক কে ইহুদীদের দালাল, চরমোনাইকে ফেরকাপন্থি, আহলে হাদীসকে মূর্খ, জামায়াতকে মওদুদীবাদ বলে গালি দেন। এখনও আপনারা গাটের টাকা খরচ করে আহলে হাদীসের স্বরুপ উদঘাটন, মওদূদীবাদের মুখোশ উম্মোচন, দেওবন্দ ও চরমোনাইয়ের ফিরকা ইত্যাদি নিয়ে জলসা করেন। মুসলিম উম্মাহ যখন সবচেয়ে খারাপ সময় অতিক্রম করছে তখন এই সব ফেরকাবাজি করতে আপনাদের সরমিন্দা লাগে না? আপনাদের কর্মকান্ড দেখে শয়তান হয়তো মুখ লুকিয়ে হাসে। এক ইসলামের মধ্যে থেকে আপনাদের এতরুপ! অথচ আপনার বিরুদ্ধবাদীদের কখনো কি নিজেদের মধ্যে মতাদর্শ নিয়ে মারামারি করতে দেখছেন? সবাই বাঁধাহীন চিত্তে ঈমানদারীত্বের সাথে নিজেদের কাজ করে যাচ্ছে।

আলেম তথা সমাজসংস্কারকদের হতে হবে প্রবাহমান নদীর মত যেখানে যেকোন অপবিত্র ও দুর্গন্ধযুক্ত কিছু পড়লে ধুয়ে-মুছে পরিস্কার করে দিবে। বেলায় বেলায় দিন গড়িয়েছে অনেক। আর নয় ভেদাভেদ, অযাচিত ফতোয়াবাজী। আসুন নিজেদের মধ্যে বিদ্যমান ছোট-খাট ভূল-ত্রটি বিনাশ করে অস্তিত্বের স্বার্থে ইসলামের সঠিক শিক্ষা প্রচার করি। নিজেদের হারানো শিরদাঁড়া আবার খাড়া করে দাঁড়াই। শত্র-মিত্র ভেদাভেদ ভূলে দরদী মন নিয়ে এগিয়ে আসি সবাই। যেকোন বিষয়কে শুধূ হারাম ঘোষণা করে খতম নয় বরং বৃহৎ জনগোষ্টীকে সঠিক পথে আনার জন্য বিকল্প চিন্তা করি। একসময় বাঙালী যে সংস্কৃতিকে ইসলাম বিরোধী বলে দূরে ঠেলে দিয়েছিলেন সেটাকে কিভাবে ইসলামীকরণ করা যায় সেই চিন্তা করি। কিভাবে দলাদলি ভূলে একই সাথে কাজ করা যায়, সেই পথ খুঁজি। আরো দেরি করেছেনতো ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। কি, আপনারা প্রস্তুততো?

(from Facebook)

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!