আজ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ মাহাথিরের, আনোয়ারের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু

 

মাসুম খলিলী

মালয়েশিয়ার চতুর্দশ সাধারণ নির্বাচনে এক নজির বিহীন সুনামির পর আজ ৯২ বছর বয়সি ড. মাহাথির মোহাম্মদ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আবার শপথ গ্রহণ করছেন। উপ প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন আনোয়ার ইব্রাহিমের সহধর্মিনী ও পিকেআর প্রধান ডা. আজিজান। নতুন সরকারের প্রথম কাজ হবে বিরোধি জোটের অন্যতম প্রধান নেতা আনোয়ার ইব্রাহিমের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করা। আজ বা কাল তিনি মুক্তি পেতে পারেন।বুধবার অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক নির্বাচনে মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকাতান হারাপান বিপুলভাবে জয় লাভ করেছে। প্রাপ্ত খবর অনুসারে, পাকাতান ও তার সহযোগিরা ২২২ আসনের সংসদে ১২২ টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। আর নাজিব রাজ্জাকের বারিসান ন্যাশনাল জয়ী হয়েছে ৭৯টি আসনে। ইসলামী দল পাস পেয়েছে ১৮ টি আসন। বাকি তিনটি আসন পেয়েছে অন্যরা। পাকাতানের জয়ী হওয়া আসন গুলোর বেশির ভাগে বারিসানের সাথে যে ভোটের ব্যবধান তাতে বিরোধি পক্ষের ভোটের হার ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।প্রাপ্ত ফলাফল অনুসারে, পাকাতান হারাপান সেলাঙ্গর, জহুর, পেরাক, পেনাং, কেদাহ, মালাক্কা, সাবাহ, ও নেগেরি সেম্বিলানে সরকার গঠন করবে। বারিসান পাহাঙ ও পারলিসে সরকার গঠন করতে পারে। পাস কেলান্তান আর তেরাঙ্গানুতে সরকার গঠন করতে পারে।জহুরের ৫৬টি আসনের মধ্যে পাকাতান হারাপান ৩৬টি, বারিসান ১৯টি ও পাস একটি আসনে জয়লাভ করে। মালাক্কায় ২৮টি আসনের মধ্যে হারাপান পায় ১৫টি এবং বারিসান পায় ১৩টি আসন। নেগেরি সেম্বিলানের ৩৬টি আসনের মধ্যে পাকাতান পেয়েছে ২০টি আর বারিসান পেয়েছে ১৬টি আসন। সেলাঙ্গরের ৫৬টি আসনের মধ্যে পাকাতান ৫১টি, বারিসান ৪টি এবং পাস একটি আসন পেয়েছে। পাহাঙের ৪২টি আসনের মধ্যে বারিসান ২৫টি, পাকাতান ৯টি এবং পাস ৮টি আসনে জয়লাভ করে। পেরাকের ৫৯টি আসনের মধ্যে হারাপান ২৯টি, বারিসান ২৭টি আসনে আর পাস ৩টি আসনে জয় পায়। পেনাঙের ৪২টি আসনের মধ্যে হারাপান ৩৭টি, বারিসান ২টি এবং পাস একটি আসনে জয় পায়। তেরাঙ্গানুতে ৩২টি আসনের মধ্যে পাস ২২টি আর বারিসান ১০টি আসনে জয় পায়। কেলান্তানের ৪৫টি আসনের মধ্যে পাস ৩৭টি আসনে এবং বারিসান ৮টি আসনে জয় পায়। কেদাহর ৩৬টি আসনের মধ্যে পাকাতান ১৮টি, পাস ১৫টি এবং বারিসান ৩টি আসনে জয় পায়। পারলিসের ১৫টি আসনের মধ্যে বারিসান ১০টি, হারাপান ৩টি আর পাস ২টি আসনে জয় পায়। সাবাহর ৬০টি আসনের মধ্যে হারাপান ও তার মিত্র ওয়ারিসান ২৯টি, বারিসান ২৯টি এবং পাস ২টি আসনে জয় পায়। পাকাতান হারাপান নিশ্চিতভাবে সরকার গঠন করতে পারবে কেদাহ, পেনাং, সেলাঙ্গর, নেগেরি সেম্বিলান, মালাক্কা, পেরাক এবং জহুরে। সাবাহতে সরকার গঠনের জন্য স্বতন্ত্র দুই সদস্যের, এবং পেরাকে সরকার গঠনের জন্য পাসের সমর্থন প্রয়োজন হবে।পাকাতান হারাপান জোটের মধ্যে, আনোয়ারের পিকেআর ৭২টি আসনে প্রতিদ্ধন্দ্বিতা করে ৪৯টিতে, কিয়াকের ডিএপি ৪৭টি আসনে প্রতিদ্ধন্দ্বিতা করে ৪২টিতে, মাহাথিরের পিপিবিএম ৫২টি আসনে প্রতিদ্ধন্দ্বিতা করে ১২টিতে,ম্যাট সাবুর আমানাহ ৩৩টি আসনে প্রতিদ্ধন্দ্বিতা করে ১০টিতে , শফি আবদালের ওয়ারিসান ১৭টি আসনে প্রতিদ্ধন্দ্বিতা করে ৮টিতে জয়ী হয়েছে। বারিসান ২২২টির সবকটি আসনে প্রতিদ্ধন্দ্বিতা করে ৭৯টি আসন লাভ করে।

পাস কয়েকটি ছোট ছোট দলকে নিয়ে পৃথক জোট করে ১৫৭টি আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। বিভিন্ন মতামত জরিপে তারা খুব খারাপ ফলাফল করবে বলে উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে সে রকম হয়নি। কেলান্তানের পাশাপাশি তেরাঙ্গানুতেও পাস সরকার গঠন করছে। দলের প্রধান আবদুল হাদি আওয়াং তার তেরাঙ্গানুর আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। কেন্দ্রে ১৮ এবং রাজ্য সংসদে মোট ৯০টি আসন লাভ করেছে পাস। আগের নির্বাচনে অবিভক্ত পাস আসন পেয়েছিল ২১টি। এবার সেখান থেকে তিনটি আসন কমেছে।পাকাতান হারাপানের প্রধান নেতা মাহাথির মোহাম্মদ পিকেআর প্রধান ডা. আজিজান, ভাইস প্রেসিডেন্ট নূরুল ইজ্জাহ আনোয়ার, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী মহিউদ্দিন ইয়াসিন, আমানাহ প্রধান মোহাম্মদ সাবু সহ অধিকাংশ নেতা বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। অন্য দিকে প্রধান মন্ত্রী নাজিব রাজ্জাক ও উপ প্রধানমন্ত্রী আহমদ জায়েদি হামেদি জয় লাভ করলেও শাসক জোটের অনেক নেতা ও মন্ত্রী পরাজিত হয়েছেন।

ইতিমধ্যে মালয়েশিয়ার রাজা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মাহাথির মোহাম্মদকে এবং উপ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ডা. আজিজানকে সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে মাহাথির মোহাম্মদ তার জোটের ১১২টির বেশি আসনে জয়ী হবার বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনে জানান।প্রধানমন্ত্রী হবার জন্য অপেক্ষমান মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, তার জোট সরকার গঠনের পর আগে দেয়া সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে এবং মালয়েশিয়াকে আবার তার মূল ট্রাকে নিয়ে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, তার সরকার বিদায়ি প্রধানমন্ত্রীনাজিব রাজ্জাকের ব্যাপারে কোন প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না।মাহাথির প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিরোধি জোটের অন্যতম প্রধান নেতা আনোয়ারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য রাজার ক্ষমা মঞ্জুরসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য তাকে সংসদের সদস্যও নির্বাচিত হতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এ জন্য এক বছরের মতো সময় প্রয়োজন হতে পারে। আনোয়ার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার আগে তার স্ত্রী ও পিকেআর প্রধান ডা. আজিজান উপ প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। এই দুইজন শপথ গ্রহণর পর মন্ত্রী সভা গঠন করা হবে।
#

Image may contain: 4 people, indoor
LikeShow more reactions

Comment

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!