আজ জেগেছে এই জনতা:খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই

খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই :আজ জেগেছে এই জনতা

Inline image 2

সায়েক এম রহমান
এক.বৃটিশের আদালতের কাটগড়ায় দাঁড়িয়ে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম যে দু-টি লাইন বলেছিলেন, আজকের দিনে সেই দু-টি লাইন দিয়েই লেখাটি শুরু করলাম।

“বিচারক জানে আমি যা বলেছি, যা লিখেছি তা ভগবানের চোঁখে অন্যায় নয়, ন্যায়ের এজলাসে মিথ্যা নয়! কিন্তু তবু হয়তো সে আমাকে শাস্তি দিবে, কেননা, সে সত্যের নয়, সে আইনের স্বাধীন নয়, সে রাজভৃত্য!” 

পাঠক, গত কয়েক দিন ধরে এই ভাষার মাসটিতে দেশ এবং দেশের বাহিরে সর্বত্রই এখন শুধু একটি গল্প, একটি আলাপ,একটি শব্দ বেগম খালেদা জিয়া! ইলেকট্টোনিক্স, প্রিন্ট, অন লাইন পোর্টাল এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেখানেই যান বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছরের জেলের গুঞ্জন। এমন কি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাটে, মাটে, খামারে একই গুঞ্জন। গ্রামের হাট-  বাজারের চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে রাজধানীর বড় বড় হোটেল রেস্তোরাঁয় এবং কূটনৈতিক পাড়ায় ও একই গুঞ্জন, একই উচ্চারণ বেগম খালেদা জিয়া। প্রত্যক্ষ করা গেছে, সাধারন মানুষের চায়ের টেবিলের প্রশ্ন”””’ বেগম খালেদা জিয়ার দুই কোটি টাকার মামলায় ৫ বছরের সাজা হয়েছে। ভাল কথা। কিন্তু মিডিয়া অবগত শেখ হাসিনার ১৩ টি মামলায় যে ১৫ হাজার কোটি টাকার মামলা। তা হলে সে মামলাগুলি কোথায়? আর এই দুই কোটি টাকার মামলায় যদি ৫ বছরের জেল হয়, তা-হলে ১৫ হাজার কোটি টাকার মামলায় কত বছরের জেল হতে পারে? পাঠক এ প্রশ্নগুলা আমার নয়, এ প্রশ্নগুলা সাধারন মানুষের গুঞ্জন। সাধারন মানুষ আরো বলছে, বেগম খালেদা জিয়ার রায় হওয়ার পর প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্লজ্জের মতন বললেন,” খালেদা এখন কোথায়? প্রথম আলোতে শিরোনাম হলো। সিরাজ সিকদারের বেলায় ও একই ভাবে শেখ মুজিব বলছিলেন,” সিরাজ সিকদার আজ কোথায়? এখন স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন জাগে”””””” শেখ হাসিনা এখন কোথায়? এ শিরোনাম আর কত দূর?

Inline image 3

দুই. পাঠক, জিয়া অরফানেজ ট্টাষ্টের কথিত দুর্নীতি মামলাটিকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে, নির্লজ্জের মতন এতিমের টাকা মেরে খেয়েছে বলে বলে  সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে বানোয়াট মামলার দ্বারা বিচারালয়কে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান  বানিয়ে, দুই শত বৎসর পুরানো পরিত্যক্ত একটি বিল্ডিংয়ে ১৮ ফুট উচু দেয়ালের ভিতরে এক মাত্র বন্দী গনতন্ত্রের প্রতিক, তিন বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

গত ৮ ফেব্রোয়ারী, বিশ্বসহ জাতি সে দিন অবাক দৃষ্টিতে দেখল, একদিকে যখন কথিত দুর্নীতি মামলার রায়ে বাংলাদেশের সব চাইতে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছরের জেল এবং তারেক রহমানসহ অন্যান্য দের ১০ বছরের জেল।

অপরদিকে তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরিশালের জনসভা থেকে বরিশাল বাসীর কাছে ডিসেন্বরে সাধারন নির্বাচনের জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চান এবং ভোট দেওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞা করান। ঐ সময় টিভির সামনে যারা ছিলেন রিমোটের বটম চেইঞ্জ করে ছিলেন এবং ধিক্কার জানিয়ে ছিলেন।

Inline image 4

ইতিহাস বলে,,,,,,১/১১ সরকার যখন চাঁদাবাজি মামলায় আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এরেষ্ট করে আদালতে নিয়ে যায়, সেই দিন কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া দুঃখ প্রকাশ করছিলেন এবং বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা একজন সাবেক প্রধানমন্রী,জাতীয় নেতার কন্যা এবং দেশের একজন সন্মানিত নাগরীক, তাঁকে এই ভাবে হেনেস্তা করা ঠিক নয়। এমন কি যখন ১/১১ সরকার লন্ডন থেকে স্বদেশ ফিরতে বাঁধা প্রদান করেছিল সে দিন ও প্রতিবাদ জানিয়ে ছিলেন।

আজ অবস্হা দৃষ্টিতে জনগন ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শেখ হাসিনা হেরে গেলেন খালেদা জিয়ার কাছে। আজ জনগনের কাছে হাসিনা খালেদা অনেক তফাৎ। কার্যত এখন খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে আটকাতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দল নিজেই আটকে গেছে। বাস্তবতা হলো, বেগম খালেদা জিয়াকে বানোয়াট মামলায় জেলে নেওয়ায় এবং বিএনপি কৌশল অবলন্বন করে সুশৃংখল ভাবে কর্মসূচী দেওয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্ষমতাসীন দল যে অংঙ্ক কষে ছিল তা পুরো দমে বিপরীত হয়ে গেছে। তাই তারা আবুল তাবুল বলছেন। আপোষহীন নেত্রী তাদের কূটকৌশল বুঝে ফেলছিলেন। যে জন্য একদিনের জন্য ও হরতালের পক্ষে ছিলেন না বেগম খালেদা জিয়া।

তিন. গত কয় দিনে বিশ্ব রাজনীতির বাজারে টপটেন এ নাম লিখে ফেলছেন বেগম খালেদা জিয়া। আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন ভাবে খালেদা জিয়ার নাম উচ্চারিত হচ্ছে। এই মহুর্ত্তে ঢাকায় অবস্হানরত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক বৃন্দ বন্দী বেগম খালেদা জিয়ার ঘটনাবলী গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন। কারন সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন ভাবে প্রমান করে ফেলেছে যে মামলাটি শতভাগই রাজনীতি উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আজ দেশের সর্বত্র কোটি কোটি মানুষের মুখে ধ্বর্ণিত হচ্ছে, আমার নেতা আমার মা, জেলে থাকতে দিবো না। আমার মা জেলে কেন,শেখ হাসিনা জবাব চাই।

চার. ইতিহাস বলে, আইয়ুবর্দীয় কোর্ট কতৃক দুর্ণীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ২ বৎসরের কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। এ ছাড়া শেখ মুজিবুর রহমান তখন ডাকাতি মামলায় ও জেল কেটেছেন।

অতএব আজ যারা বেগম খালেদা জিয়ার মিথ্যা মামলার রায়ে আনন্দ উৎসব করছেন। তারা একটু থামুন! এবং ভাবুন! কারন সময়ই শ্রেষ্ট বিচারক! তাদের কাছে প্রশ্ন এই মামলার রায়টি যদি সঠিক বা সত্য বলে গ্রহন করেন তা হলে আজকের শেখ হাসিনার কোর্টের রায় ও সত্য বলে ধরে নিতে পারি।

আর যদি আইয়ুবর্দীয় কোর্টের সেই মামলার রায়কে অসত্য মনে করেন।
তা হলে আজকের বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় ও অসত্য ও বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। কারন এখানে বিচারকরা ঠিকাদার ও বিচারালয়কে ঠিকাদারি প্রতিষ্টানে পরিণত করা হয়েছে। তাই আবার বলছি সময়ই শ্রেষ্ট বিচারক!

পাঁচ. পাঠক, আজ বিজ্ঞ মহল বলছেন, এ জাতীয় সাজার ফলে কোন ক্ষতি হবে না কারন,বেগম খালেদা জিয়া একটি সামাজিক শক্তির নাম। অগনতান্ত্রীক সরকার চাইবে সামাজিক ও গনতান্ত্রীক শক্তি দমন করতে কিন্তু সামাজিক ও গনতান্ত্রীক শক্তি কখনও দমন করা যায় না। দমন পীড়নে সামাজিক ও গনতান্ত্রীক শক্তি বিভিন্ন ভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে।

Inline image 5

এতো নির্যাতন গ্রেপ্তার করেও সরকার থামাতে পারেনি শান্তিপূর্ন গনজোয়ার। আজ সারা বাংলার মানুষে মুখে মুখে একটি শ্লোগান উচ্চরিত হচ্ছে, আমার নেতা আমার মা, জেলে থাকতে দিবো না। দেশমাতার মুক্তির দাবীতে লক্ষ কোটি একত্রে সামিল হচ্ছে। এই বাঁধ ভাঙা গনজোয়ারে যতো বাঁধা বিপত্তি আসবে,গনজোয়ার ততো বিশাল আকার ধারন করবে ঠিক কিন্তু শুধু গনজোয়ার সৃষ্টি করলে হবে না। ঐ গনজোয়ারকে গণঅভ্যুত্থানের পরিনত করতে হবে। দেশ ও জাতি এ যাবৎ সব চাইতে কঠিন সময় অতিক্রম করছে। আমার ভাষায় বলব একাত্তরের চাইতে কঠিন সময়। এই মহুর্ত্তে দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য একমাত্র প্রয়োজন একটি গণঅভ্যুত্থান।

বৃটিশ বিরোধী আনন্দোলনের সেই ঐতিহাসিক গানটির দু টি লাইন দিয়ে লেখাটি শেষ করতে ইচ্ছে করছে।

https://youtu.be/PvOEiWG0g30

Composed during the independence movement. A hard look at the unfair British justice system. It’s asking the british judge ‘who will judge you, your honour ?…

“বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা,
আজ জেগেছে এই জনতা”।।
তাই বলছি, বসন্তের ফুল ফুটুক আর নাই-ই ফুটুক, আজ জেগেছে এই জনতা।।।

লেখকঃ
লেখক ও কলামিষ্ট
সায়েক এম রহমান

শীর্ষ খবর/আ আ

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!