আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা

২০০৪ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত বিবিসি বাংলা জরিপে ভারত বাংলাদেশ মিলিয়ে ২০ জন বাঙ্গালীকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল তাদের কর্ম, মেধা এবং জনগণের উপর তাদের ইনফ্লুয়েন্স এর উপর ভিত্তি করে। এই লিস্টে ১ নম্বরে ছিলেন শেখ মুজিবর রহমান, রবীন্দ্রনাথ ২, কবি নজরুল ৩ এবং ১৯ নম্বরে ছিলেন জিয়াউর রহমান।
শেখ মুজিবের শীর্ষ স্থান পাওয়ার বিবিসি আর্টিকেলের পুরোটাই ছিল ৭ই মার্চের ভাষণ প্রসঙ্গ এবং কিছু অংশে মুক্তিযুদ্ধের আগে তার আন্দোলনের বিবরণ (Very important to note, তার ‘৭২-৭৫ শাসনামলের বিবরণ আর্টিকেলে ছিল না)। Based on 1969-71 events, ভারত বাংলাদেশের জরিপে অংশগ্রহণকারী জনগণ তাদের ভোট শেখ মুজিবের পক্ষে দিয়েছে l জিয়াউর রহমানের আর্টিকেলে তার স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার বিষয়টিই শুধু স্থান পায়নি, তার সাড়ে তিন বছরের ছোট্ট স্প্যানের শাসনামলের দুর্দান্ত কিছু পারফরম্যান্স এর বিষয়ও স্থান পেয়েছিল l Unlike শেখ মুজিব, জিয়াউর রহমান (being a Bangladeshi nationalist leader) ভারতীয়দের কাছ তেমন কোন প্রিভিলেজ পাননি, আর ভোট এর প্রশ্নও ওঠে না। সে হিসেবে তার ১৯ নাম্বারে আসাটা একটা মিরাকল।
Moreover, “জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক নন, তিনি পাকিস্তানের চর ছিলেন, তিনি শেখ মুজিব হত্যায় জড়িত, তিনি একজন খুনি সামরিক শাসক, etc.” এমন প্রোপাগাণ্ডা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত আওয়ামী মিডিয়া যত্নের সাথে প্রচার করে যাচ্ছিল (still ongoing). In light of this background, জিয়াউর রহমানের ১৯ নম্বরে স্থান পাওয়া was indeed a miracle! Surely, this miracle happened based on some true facts about his patriotic leadership and moral human values, For instance,
[1] মাত্র ৩৫ বছর বয়সের একজন মেজর জীবনের ঝুকি নিয়ে তারই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ফাইট করেছিলেন। আজ দেশ স্বাধীন না হলে শেখ মুজিব কোথায় থাকতেন জানিনা তবে জিয়াউর রহমান যে কোর্ট মার্শালে ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলতেন এটা নিশ্চিত। এটা জেনেও তিনি বিদ্রোহ করেছিলেন আর তিনিই নাকি এখন রাজাকার, পাকিস্তানের চর, বলিহারি..
[2] জিয়াউর রহমান ছিলেন এমন একজন রাস্ট্রপতি যিনি নিজে বীর উত্তম মুক্তিযোদ্ধা হয়েও কখনো মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যাবসা করেননি, অথচ তার প্রতিষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী দলেই ছিল প্রমিন্যান্ট সব মুক্তিযোদ্ধা, কেউ বীর উত্তম, কেউ বীর বিক্রম, কেউ বীর প্রতিক। The proportion is considerably higher than what other political parties hold.
জিয়াউর রহমান একজন অখ্যাত (!?!) রাস্ট্রপতি হয়েও দেশে প্রথম একুশে পদক আর স্বাধীনতা পদক দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি সন্মাননার প্রদর্শনের প্রচলন শুরু করেন।
[3] বাংলাদেশীদের জীবনে ৭ই নভেম্বরের গুরুত্ব অপরিসীম এটা অনেকেই আমরা ভুলে যাই। আওয়ামিলীগ সে সময় স্থিমিত থাকলেও জাসদের কূটকৌশল যেভাবে ঠান্ডা মাথায় হ্যান্ডেল করেছিলেন তিনি তা সত্যিই প্রশংসনীয় ছিল।
[4] জিয়াউর রহমান স্বৈরশাসক, তিনি বহুত খারাপ ভাবে ক্ষমতা দখল করেছেন এমন কথা বিরোধী পক্ষের একটা দুর্বল ট্রামকার্ড।
কারন কেউ জোর করে পাওয়ার দখল করে কি জন্য? ক্ষমতা আর টাকার জন্য। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে দেশে বাকশাল না করে বহুদলীয় গণতন্ত্র কায়েম করেছিলেন l তিনি সব দলের লোক নিয়ে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন,সবাইকে তিনি বলতেন -আসো সবাই একসাথে দেশের জন্য কাজ করি।
[5] টাকা? খোদ আওয়ামী ভ্যাটার্ন নেতারাও স্বীকার করে জিয়াউর রহমান কতটা সৎ ছিলেন। তার সময়ে কোন ব্যাংক লুটপাট হয়নি, বিদেশে টাকা পাচার হয়নি, তার সময়ে ছিলনা কোন ক্যাসিনো সম্রাট। তিনি নিজে দুর্নীতি করতেন না, কাউকে করতেও দিতেন না।তিনি তার নিজের দলের লোককে বিদেশ সফরে তাকে না জানিয়ে ভিসিআর আনার জন্য দল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন।
[6] আজকের বাংলাদেশের অর্থনীতির ফুসফুস, যার উপর ভিত্তি করে এ দেশের অর্থনীতি এখনো টিকে আছে, যার উপর ভিত্তি করে বর্তমানের কুতুবরা দেশকে কানাডা সুইজারল্যান্ড মনে করতে পারছেন সেই গুরুত্বপূর্ণ দুই সেক্টর জনশক্তি রপ্তানি এবং গার্মেন্টস শিল্প এই জিয়াউর রহমানের উদ্যোগেই গড়ে তোলা শিল্প।
কলকারখানা গুলো বেসরকারিকরনের উদ্যোগ তিনিই প্রথম নিয়েছিলেন যার পরবর্তী রুপ আজকের ইপিজেড।
[7] জিয়াউর রহমান বিদেশ সফরে গেলে তার বহনকারী বোয়িং বিমানটি এয়ারপোর্টে অলস বসিয়ে রাখতেন না, তিনি জানতেন একটা গরীব দেশের রাস্ট্রপতির জন্য এটা শোভনীয় নয়। অন্য রাস্ট্র প্রদত্ত ব্যাক্তিগত উপহারও তিনি রাস্ট্রীয় কোষাগার জমা দিতেন, এমনকি ঘড়িও। অথচ দুই আনার কাউয়া নেতারা এখন ৩২ লাখ টাকা দামী গিফটের রোলেক্স ঘড়ি হাতে পরে ঘোরেন।
জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের আকাশে একটি জ্বলজ্বলে সুর্য, আমি চাই তিনি তেমনই থাকুন।তাকে স্যাটেলাইট বানিয়ে মহাকাশে পাঠানোর আবশ্যকতা নাই, আবার লেজার রশ্মি বানিয়ে মর্তে নামানোরও প্রয়োজন নাই, তিনি সুর্য হয়ে এদেশের আকাশে জ্বলতে থাকুন এই দোয়াই রইল তার ৩৯ তম শাহাদাত বার্ষিকীতে।
স্যালুট হে মহান নেতা, আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এই দোয়াই রইল মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি।
(লেখক:ফ্রান্স প্রবাসী সাংবাদিক এম এ মান্নান আজাদ)

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!