আওয়ামী লীগের চোখ কওমিদের ভোটব্যাংকে

 

চোখ কওমিদের ভোটব্যাংকে

সংসদ নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে চলছে কওমি তথা হেফাজতে ইসলামের ভোটব্যাংক আয়ত্তে আনার হিসাব-নিকাশ। তাই কওমি মতাদর্শীদের ১৫ লক্ষাধিক ভোট নিজেদের আয়ত্তে নিতে দুই জোটেই চলছে দৌড়ঝাঁপ। বিগত সময়ে বিশাল এ ভোট ব্যাংক বিএনপির অনুকূলে গেলেও কওমি সনদের সরকারি স্বীকৃতি এবং সরকারের সঙ্গে কওমি নেতাদের দূরত্ব কমার কারণে এবারের পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। তাই কওমি ভোট ব্যাংক ‘ইউটার্ন’ নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে যাবে বলছে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কওমি মতাদর্শী কওমি নেতারা।

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, যারা ইসলামের পক্ষে রয়েছে। আলেমদের পক্ষে কথা বলে তাদের প্রতীকে যাবে কওমিদের ভোট। বিশ্লেষকদের মতে, সারা দেশে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর  ৬/৭  শতাংশ ভোটার রয়েছে। তার মধ্যে জামায়াতে ইসলামের একক ভাবে প্রায় ৫ শতাংশ আর কওমি ভিত্তিক সংগঠনের রয়েছে ১ থেকে দেড় শতাংশ ভোট। সে হিসাবে দেশের ১০ কোটি ৪২ লাখ ভোটেরর মধ্যে ১৫ লক্ষাধিক কওমি ভোটার রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এবার নির্বাচনে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধত ২০টির বেশি ইসলামী দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তার মধ্যে যে সব দলের নিবন্ধন নেই তারা নিবন্ধিত অন্য ইসলামী দলের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন ২৯৮টি, ইসলামী ঐক্যজোট ২৪টি, খেলাফত আন্দোলন ২৩টি ও খেলাফত মজলিশ ৫টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। ২০-দলীয় জোটের শরিক হওয়ায় খেলাফত মজলিস ধানের শীর্ষ প্রতীকে ১২টি ও জমিয়তে উলমায়ে ইসলাম আটটি আসনে নির্বাচন করছে। জানা যায়, অতীতে কওমি মতাদর্শী কর্মী সমর্থকরা ভোটের সময় আওয়ামী লীগ ও তার মিত্রদের বিপক্ষে অবস্থান নিতেন। ফলে এর সুফল পেত বিএনপি। ২০১৩ সালের ৫ মে তারিখে ঢাকার শাপলা চত্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর কওমিদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দূরত্ব আরও বাড়তে থাকে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে কওমিদের দূরত্ব কমতে শুরু হয়। দাওরায় হাদিসকে মাস্টার্সের মর্যাদা দেওয়ার পর উষ্ণ সম্পর্ক বিরাজ করে দুই মেরুর লোকজনের মধ্যে। এমনকী ঢাকার শোকরানা মাহফিলে কওমি আলেমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেয়। এ ছাড়া কওমিদের শীর্ষ মুরব্বি ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফীর সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে আওয়ামী লীগ প্রধানের। এসব কারণে কওমি ভোট ব্যাংকে এবার ভাগ বসাতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগও।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কওমি মতাদর্শী শীর্ষ রাজনৈতিক দলের নেতা বলেন, ‘এক সময় কওমিদের মোট ভোটের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই যেত বিএনপির ঘরে। এবারের পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে কওমি তথা হেফাজতে ইসলামের যে দূরত্ব ছিল তা অনেক কমেছে। কওমি মাদ্রাসার সনদকে সরকারি স্বীকৃতিসহ নানা কারণে হেফাজতে ইসলামীর আমিরসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সুসম্পর্ক রয়েছে। তাই এবার কওমি ভোট ব্যাংককে হানা দেবে আওয়ামী লীগও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক কওমি নেতা বলেন, ২০টির বেশি কওমি মতাদর্শী দল থাকলেও ভোট ব্যাংক রয়েছে শুধু ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিস ও জমিয়তে উলমায়ে ইসলামের। এ চার দলের বাইরের দলগুলোর কর্মী সমর্থকরা বলতে গেলে ভ্রাম্যমাণ। শেষ মুহূর্তে তাদের যারাই আকৃষ্ট করতে পারবে, তাদের পক্ষেই যাবে এ দলগুলোর সমর্থকদের ভোট।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!