অর্ধশত টর্চার সেল ঢাবির ১৩ হলে:শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীরা

ক্যাম্পাস ও হলে সাত বছরে ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতনের শিকার দেড় শতাধিক * ছাত্রলীগের পদধারী নেতাকেও পেটানো হয়েছে ‘ছাত্রদল ও শিবির’ করার অভিযোগে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধশত কক্ষ ব্যবহৃত হয় ‘টর্চার সেল’ হিসেবে। ১৩টি ছাত্র হলের এসব কক্ষে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। কেবল শিক্ষার্থী নির্যাতনের জন্য ব্যবহৃত না হলেও পরিবেশ ও সময়ভেদে এসব কক্ষই হয়ে ওঠে ‘নির্যাতনের কেন্দ্র’।

এক্ষেত্রে কখনও শয়ন কক্ষ, কখনও আহার কক্ষ, কখনও অতিথি কক্ষ, কখনও হলের ছাদ, মাঠ কিংবা গণরুমগুলোও সংশ্লিষ্টদের কাছে ‘টর্চার সেল’ হয়ে ওঠে। নির্যাতন কক্ষটি অনেক ক্ষেত্রে গেস্টরুমের প্রতিশব্দ হয়ে উঠেছে। এ নামেই ওইসব কক্ষে মূলত ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদের ওপর চলে নির্যাতন।

গত সাত বছরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ১৩টি আবাসিক হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ৫৮টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছে। এতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। এদের কাউকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে, কাউকে আবার পিটিয়ে হল থেকে তাড়িয়ে সিট দখল করা হয়েছে।

আধিপত্য বিস্তারে নিজ সংগঠনের পদধারী নেতাকেও ‘ছাত্রদল-শিবির’ করার অভিযোগে পিটিয়ে হল ছাড়া করার দৃষ্টান্ত রয়েছে। মেয়েদের হলেও আছে এমন নির্যাতনের ঘটনা। তবে ছাত্র হলের তুলনায় কম।

কেবল ছাত্রলীগই নয়, অতীতে অন্যান্য ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনও সিট দখলের রাজনীতির সুযোগে শিক্ষার্থীদের ওপর নানাভাবে নির্যাতন করেছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

তবে ছাত্রলীগের দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের গণরুম-গেস্টরুম থাকলেও কোনো ‘টর্চার সেল’ নেই। ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করতে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এটি বলা হচ্ছে। গণরুম-গেস্টরুম নিয়ে কিছু নেতিবাচক আলোচনা থাকলেও এটি ‘টর্চার সেল’ বলতে নারাজ ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগের দীর্ঘদিনের রেওয়াজ হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলে নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত চারটি প্রধান গ্রুপ থাকে। তারা যথাক্রমে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

সেই হিসেবে ১৮টি হলে মোট ৭২টি গ্রুপ আছে। ছাত্রদের ১৩টি হলে আছে ৫২টি গ্রুপ। হলে উঠতে হলে শিক্ষার্থীকে যে কোনো একটি গ্রুপের হয়ে ‘গণরুমে’ উঠতে হয়। কোনো হলে সব গ্রুপের ‘কমন গণরুম’ আছে, আবার কোনো হলে গ্রুপভিত্তিক পৃথক ‘গণরুম’।

এসব গ্রুপের মধ্যে আবার সাব-গ্রুপ আছে। প্রতিটি গ্রুপ তার অনুসারী নেতাকর্মীদের পৃথকভাবে ‘গেস্টরুমে’ ডেকে নিয়ে যায়। এটি কখনও হলের অতিথি কক্ষে হয়, কখনও আবার রাজনৈতিক কক্ষগুলোতেও (পলিটিক্যাল রুম) হয়। যে রুমেই নেয়া হোক সেটাই প্রতীকী গেস্টরুম হিসেবে বিবেচিত হয়।

সাধারণত প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা, দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা- এভাবে শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী এই ‘গেস্টরুমে’ ডাকা হয়। কখনও কখনও আবার গ্রুপের প্রধান (হলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপত্যাশী) সবাইকে নিয়ে ‘গেস্টরুমে’ বসেন।

মূলত এসব ‘গেস্টরুম’ কেন্দ্র করেই শুরু হয় নির্যাতন। গেস্টরুমে ডাকা মানেই ছোট বা বড় যে কোনো ধরনের নির্যাতন অনিবার্য।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আচরণ শেখানো ও পরস্পরের পরিচিতির জন্য ‘গেস্টরুমে’ ডাকা হলেও এখানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা অনেকটা নিয়মিত। কেউ ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে যেতে না পারলে, বাড়ি যেতে চাইলে ‘গেস্টরুমের বড় ভাই’দের কাছ থেকে ছুটি নিতে হয়। রাতেই সাধারণত ‘গেস্টরুমে’ ডাকা হয়ে থাকে।

এখান থেকে দেয়া নির্দেশের কারণে শিক্ষার্থীদের অনেক সময় রাতে না ঘুমিয়ে ক্যাম্পাসে ঘুরতে হয়। বেশ কয়েকটি হলের ‘গেস্টরুম’ থেকে রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাতের বেলায় ঘুরতে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

ফলে অনেকে সেখানে গিয়ে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। কোনো কোনো গেস্টরুমে অন্য গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে করণীয়, কীভাবে আক্রমণ করবে সেসব শেখানোরও ঘটনা ঘটেছে।

‘বড় ভাইদের’ মনমতো চলতে না পারায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অসংখ্য ঘটনার নজির রয়েছে এই ‘গেস্টরুম প্রথায়’। ‘ছাত্রদল-শিবির’ অভিযোগে অসংখ্য নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে এই ‘গেস্টরুমে’। তবে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী অধ্যয়নসহ ইতিবাচক ধারায় ‘গেস্টরুম’ পরিচালনার নজিরও পাওয়া গেছে কয়েকটি হলের অল্প কিছু গ্রুপে।

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে যুগান্তর। এতে দেখা যায়, এই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৮টি আলোচিত নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসব ঘটনার ভুক্তভোগী দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী।

যাদের প্রত্যেককেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে মার খেয়ে হল ছাড়তে হয়েছে। পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে এদের বড় একটি অংশকে। ‘ছাত্রদল-শিবির’ করার অভিযোগে অধিকাংশকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

কিন্তু অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে তাদের অনেককে থানা থেকে অভিভাবকদের কাছে জিম্মায় ছেড়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অনেকে আবার বিভিন্ন মামলায় জেলে গিয়েছেন। গ্রুপিংয়ের কারণে স্যার এএফ রহমান হল, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ছাত্রলীগের পদধারী নেতাকেও ‘ছাত্রদল-শিবির’ অভিযোগে পিটিয়ে হলছাড়া করার অভিযোগ রয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলে ৬ শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতনের শিকার হন, ১০ এপ্রিল একই হলে ৮ শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হন, ১২ জুন মধুর ক্যান্টিনে ১ জন, ২৩ জুলাই স্যার এএফ রহমান হলে ৩ জন ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ৩ জন, ১৬ জুলাই হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ১ জন, ২৫ আগস্ট কবি জসীমউদ্দীন হলে ১ জন, ৬ সেপ্টেম্বর হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ৩ জন, ১ অক্টোবর মাস্টারদা সূর্যসেন হলে ১ জন, ২০ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু হলে ১ জন, ২৫ অক্টোবর মধুর ক্যান্টিনে ২ জন, ২৬ নভেম্বর মুহসীন হলে ১ জন, ১১ ডিসেম্বর এসএম হলে ৪ জন, ১৬ ডিসেম্বর একই হলে আরও ৪ জন, ২১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ১ জন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের শিকার হন।

২০১৪ সালে মারধরের শিকার হন- ২০ জানুয়ারি শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ৫ জন ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে ১ জন, ৩ মার্চ অমর একুশে হলের সামনে ৪ জন, ৫ মে কলাভবনের সামনে ৩ জন ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ১ জন, ২০ অক্টোবর স্যার এএফ রহমান হলে ৮ জন।

২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জহুরুল হক হলে ৭ জন, ৪ ফেব্রুয়ারি একই হলে ১ জন এবং ফজলুল হক মুসলিম (এফএইচ) হলে ১ জন, ২১ ফেব্রুয়ারি এসএম হলে ২ জন, ২ আগস্ট বিজয় একাত্তর হলে ৩ জন নির্যাতনের শিকার হন। ২০১৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি চারুকলায় ১ জন, ১ মার্চ এসএম হলে ১ জন, ২২ অক্টোবর একই হলে ২ জন শিক্ষার্থী নির্যাতিত হন।

২০১৭ সালের ২৭ জুলাই জিয়াউর রহমান হলে ২ জন, ১০ আগস্ট এসএম হলে ১ জন, ১২ আগস্ট বিজয় একাত্তর হলে ১ জন ও জিয়াউর রহমান হলে ১ জন, ১৭ আগস্ট মুহসীন হলে ৫ জন, ১১ অক্টোবর কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে ১ জন এবং ২৪ অক্টোবর টিএসসিতে ১ জন নির্যাতনের শিকার হন।

২০১৮ সালে ছাত্রলীগ কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হন- ১৬ জানুয়ারি বিজয় একাত্তর হলে ১ জন, ৬ ফেব্রুয়ারি এসএম হলে ১ জন, ২৭ ফেব্রুয়ারি বিজয় একাত্তর হলে ১ জন, ১ মার্চ ফুলার রোডে ১ জন, ৮ মার্চ এফএইচ হলে ১ জন, ২৩ মার্চ বিজয় একাত্তর হলে ২ জন, ২৪ মার্চ স্যার এএফ রহমান হলে ১ জন, ১০ এপ্রিল কবি সুফিয়া কামাল হলে ১ জন, ২৪ মে জিয়াউর রহমান হলের গেস্টরুমে অন্তত ৩ জন, ৬ আগস্ট এফএইচ হলে ৬ জন, ৩০ সেপ্টেম্বর এসএম হলে ২ জন, ১০ অক্টোবর মুহসীন হলে ১ জন, ২৫ অক্টোবর টিএসসিতে ২ জন, ১ নভেম্বর টিএসসিতে ১ জন, ২১ নভেম্বর এসএম হলে ১ জন, ২৩ ডিসেম্বর বিজয় একাত্তর হলে ১ জন, ২৪ ডিসেম্বর জহুরুল হক হলে ১ জন। চলতি বছর ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হন- ৩০ জানুয়ারি মল চত্বরে ১ জন, ১ মার্চ এসএম হলে ১ জন, ২২ এপ্রিল বিজয় একাত্তর হলে ১ জন, ১৩ জুলাই জিয়াউর রহমান হলের গেস্টরুমে ২৫ জনকে মারধর ও গালমন্দের ঘটনা ঘটে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব ঘটনার বাইরেও বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থী হয়রানির খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিট দখলের মাধ্যমে হলে আধিপত্য বিস্তার করেই এ ধরনের অন্যায় কাজে জড়াচ্ছে ছাত্রলীগ।

সংগঠনের কর্মসূচিতে কর্মী সংখ্যা বাড়াতে নানা কৌশলে তারা নবীন শিক্ষার্থীদের ‘গণরুম-গেস্টরুম’মুখী হতে বাধ্য করছেন। মফস্বল থেকে আসা শিক্ষার্থীরা হলে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে ছাত্রলীগের নির্দেশনা মানতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি ছাত্রীহল এবং ছেলেদের বিজয় একাত্তর হল ছাড়া অন্য ১২টি হলে উঠতে চাইলে অবশ্যই ছাত্রলীগের মাধ্যমে উঠতে হয়। ফলে বাধ্য হয়ে সব রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয় হলে থাকা নবীন শিক্ষার্থীদের। এক্ষেত্রে প্রশাসন অনেকটাই নির্বিকার।

তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে অনুপ্রবেশের কথা উঠলেও নবীন শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত না হয়েই বাধ্য করা হয় দলীয় কর্মসূচিতে যেতে। অনেক সময় ক্লাস বাদ দিতেও দেয়া হয় চাপ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘গেস্টরুম’র অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। তবে গণরুমের অবস্থা অনেকটা আগের মতোই। ছেলেদের হলগুলোতে ৮ জনের কক্ষে গণরুমে থাকছেন হলভেদে ২৫-৩৫ জন। মূলত সিটের রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই এই গণরুম ও গেস্টরুম প্রথা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি হলের ৫ জন ভিপি-জিএস যুগান্তরকে বলেন, অপেক্ষাকৃত ছোট হলগুলোতে গেস্টরুম বেশি হয়। কারণ সেখানে সিট সংকট তীব্র। তারা বলছেন, প্রশাসনিকভাবে সিট দেয়া শুরু হলে এই সংকট অনেকাংশেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

তারা এও বলছেন, ছাত্র সংগঠনগুলোর ভয়- যদি বৈধ সিটের নিশ্চয়তা পায় তাহলে ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে স্বেচ্ছায় যাবে না। তাই বৈধ সিট দেয়ার ক্ষেত্রে ছাত্র সংগঠনগুলোর অবৈধ চাওয়াতে কর্ণপাত না করে সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন করতে হবে।

গণরুমে থাকা সাত শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয় যুগান্তরের। তারা বলছেন, ক্যাম্পাসে রাজনীতি কেউ ইচ্ছা করে করে না। শুরুতে তাদের দিয়ে বিভিন্ন অপরাধ করানো হয়, পরে যখন সে খারাপ কাজে জড়িয়ে যায়, সেই নেতারাই তাদের উদ্ধার করে। পরে বাধ্য হয়ে তাদের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে হয়।

তারা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনও শয়ন কক্ষ, কখনও আহার কক্ষ, কখনও অতিথি কক্ষ, আবার গণরুমগুলোই হয়ে ওঠে টর্চার সেল। তারা আরও বলছেন, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরও যারা হলে থাকছেন, তারা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের অবস্থা বুঝতে চান না। তাই এ সংকট আরও বাড়ে। তবে গেস্টরুমে অনেকে ভালো উপদেশও দেন বলে জানান তারা।

তবে ছাত্রীহলগুলোতে গণরুমের চিত্র অনেকটা আলাদা। সেখানে গণরুম বললেও ছাত্র হলের মতো মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র নেই। কারণ এই হলগুলোতে বৈধ সিট পাওয়া যায়। তবে যারা বৈধ সিট পায় না, তারা অনেক ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের শরণাপন্ন হয়। তখন ছাত্রলীগ তাদের গণরুমে তুলে দেয়।

যাদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়ে যায়। এছাড়া তাদের গেস্টরুমেও ডাকা হয়। তবে সেসব গেস্টরুমে ছাত্র হলের মতো নির্যাতনের চিত্র নেই। তবে বিভিন্ন কর্মসূচিতে গিয়ে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে ছাত্রীহলের এসব গণরুমে থাকা অনেকের কাছ থেকেই।

এদিকে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আল-নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি কর্মীদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস নিয়ে আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্টরুমে নতুন ধারা এনে এ বিষয়ক আলোচনা শুরু করা হবে বলে জানিয়েছিলেন ছাত্রলীগের এই শীর্ষ নেতৃত্ব।

রোববার যুগান্তরকে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। গেস্টরুম নিয়ে আগামীতে কোনো নেতিবাচক কথা থাকবে না।

এরপরও যদি কেউ গেস্টরুমে অতি উৎসাহী হয়ে কোনো নেতিবাচক কাজ করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। প্রশাসনকেও বলব, নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো টর্চার সেল নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেন, কিছু গেস্টরুমের বিষয়ে যে ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ আসে সেগুলো আশা করছি আর আসবে না। আমরা গেস্টরুমের কার্যক্রম ঠিক করে দেব। সেগুলো হবে শিক্ষা ও পাঠচক্রভিত্তিক।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রাব্বানী যুগান্তরকে বলেন, আমরা যখনই কোনো অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নিয়েছি। শিক্ষার্থীদের বলব, কেউ কোনোভাবে হয়রানির শিকার হলে আমাদের জানাবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব।

(যুগান্তর)

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!