সিলেটে মোকাব্বির খান লাঞ্ছিত

সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানকে দেখেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন সিলেট বিএনপির নেতা-কর্মীরা। দাবি তুলেন সুধী সমাবেশ থেকে বের করে দেয়ার। এ নিয়ে গতকাল সিলেটের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। পরে অবশ্য আয়োজকরা তড়িঘড়ি করে মোকাব্বির খানকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দিয়ে বিদায় জানান। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। মোকাব্বির খানের বক্তব্যের সময় সমাবেশস্থল ত্যাগ করে বিএনপি নেতারা বাইরে অবস্থান নেন। মোকাব্বির খান চলে যাওয়ার পর তারা আবার অনুষ্ঠানে ফিরেন।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- ‘মোকাব্বির খান উপস্থিত থাকার বিষয়টি জানতে পারলে আমরা সেখানে উপস্থিত হতাম না।

কারণ- তার মুখ আমরা দেখতে চাই না।’ সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান। তিনি গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য। বিগত ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে সিলেট-২ আসন থেকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বেগম তাহসিনা রুশদীর লুনাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বিদ্রোহী হয়েছিলেন মোকাব্বির খান।

পরবর্তীতে আইনি জটিলতায় লুনার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেলে বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের তরফ থেকে মোকাব্বির খানকে সমর্থন দেয়া হয়। আর এক সপ্তাহের প্রচারণায় মোকাব্বির খানকে নিয়ে বাজি ধরা বিএনপি এ আসনে জয় পায়। মোকাব্বির খান নির্বাচিত হন। ওই সময় ইলিয়াস পরিবার ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা মোকাব্বিরের পক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণে তার জয় ত্বরান্বিত হয়। জয়লাভের পর মোকাব্বির খানের সংসদে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন হয়। শেষ মুহূর্তে বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের নির্দেশ অমান্য করে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন মোকাব্বির খান। আর শপথের পর তাকে নিয়ে ক্ষোভ দেখান ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।

এমনকি শপথের পর দোয়া নিতে গেলে তাকে ‘গেট আউট’ বলে বের করে দেন ড. কামাল হোসেন। আর এই শপথ গ্রহণ করায় মোকাব্বির খানকে নিয়ে সিলেট বিএনপিতেও ক্ষোভ দেখা দেয়। এখন আর বিএনপি তার সঙ্গে নেই। এই অবস্থায় গতকাল দুপুরে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এনজিও সংস্থা আইডিয়ার পক্ষ থেকে সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের দাওয়াত দেয়া হয়। দাওয়াত পান সিলেট-২ আসনের এমপি মোকাব্বির খানও। অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষণ পর অনুষ্ঠানস্থলে এসে উপস্থিত হন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান। তাকে দেখেই উপস্থিত বিএনপি ও মহিলা দলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা অনুষ্ঠানে মোকাব্বির খানের উপস্থিতির কারণ জানতে চান আয়োজকদের কাছে। তারা মোকাব্বির খানের সামনেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

একপর্যায়ে বিএনপি ও মহিলা দলের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে বের হয়ে আসেন। এ সময় হলরুমের বাইরে মহিলা দলের নেত্রীরা মারমুখী হয়ে উঠলে বিএনপি নেতারা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ ব্যাপারে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ মানবজমিনকে জানিয়েছেন- মোকাব্বির খানের উপস্থিতির কথা জানতে পেরে যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরাও জেলা পরিষদে আসতে থাকেন। এ সময় মোকাব্বির খান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখেই দ্রুত অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। মোকাব্বির খান অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগের পর বিএনপি ও মহিলা দল নেতারা আবারো অনুষ্ঠানে যোগ দেন বলে জানান আলী আহমদ। সুধী সমাবেশের আয়োজন আইডিয়ার আহ্বায়ক ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন- মোকাব্বির খান অনুষ্ঠানের অতিথি ছিলেন। তিনি অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের পরই বিএনপি নেতারা বের হয়ে গেলেও মোকাব্বির খান বক্তব্য দিয়ে চলে যাওয়ার পর তারা পুনরায় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী সিটি কাউন্সিলর শাহানারা বেগম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা নিগার সুলতানা ডেইজিসহ অর্ধশতাধিক রাজনৈতিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মোকাব্বির খানের বক্তব্য: সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনের ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন সিলেট-২ আসনের এমপি মোকাব্বির খান। তিনি সন্ধ্যায় মানবজমিনকে জানিয়েছেন- এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। শুধু আমি না কেউ-ই এ ধরনের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেননি। অথচ একটি মিথ্যা ও কাল্পনিক কাহিনী বাহিনী এসব রটানো হচ্ছে। তিনি বলেন- ওসমানীনগরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক থাকায় আমি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে চলে এসেছি। কারো সঙ্গে আমার কোনো ঝামেলা হয়নি। সিলেট বিএনপি’র নেতাদের ঘটনা সম্পর্কিত বক্তব্যকে তিনি মিথ্যা দাবি করে বলেন- তারা কেন এসব করছে আমি জানি না।

ওয়েছ খছরু, সিলেট,মানবজমিন

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!