সিলেটের মাইমল(মৎস্যজীবী) সমাজ : ঐতিহ্য সত্ত্বেও উপেক্ষিত: মাওলানা আবদুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী

সিলেটের বর্ণভেদ প্রথার সবচেয়ে নগ্নরূপ প্রকাশ পেয়েছে মাইমল সমাজের প্রতি আচরণে। ধূর্ত ব্রাহ্মণসমাজ রচিত কৃত্রিম সামাজিক বিভাজন সিলেটের প্রাচীন তথাকথিত অভিজাত তথা সামাজিক সুবিধাভোগীদের ইসলাম গ্রহণের পরও যে খতম হয়ে যায়নি, শাহজালালের পুণ্যভূমির নবমুসলিমদের ইসলামের সামাজিক সাম্য অনুধাবনে ব্যর্থতাই এর বড় প্রমাণ। এরা ইসলামের নামায-রোযা প্রভৃতি আত্মস্থ করেছে সত্য, কিন্তু ইসলামী মূল্যবোধকে পুরোপুরি রপ্ত ও আত্মস্থ করে উঠতে পারেনি। বিশেষত মাইমল সমাজ তথা মৎস্যজীবী সমাজের প্রতি আচরণই এর বড় প্রমাণ। এ সমাজের লোকদের সাথে আচরণে জাহিলিয়াত যেন পূর্ণ স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। অন্য কোনো জেলায় তা এতটা উলঙ্গরূপে দেখা যায় না।

মাইমল বা মাহিমাল শব্দটি ফার্সী ভাষায় মাহি ও মাল্লারই সন্ধিবদ্ধরূপ। মাহি অর্থ মাছ, মাছ ধরা ও এর ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তি; আর মাল্লাহ অর্থ মাঝি। যুগ যুগ ধরে ভূমিসম্পদ থেকে বঞ্চিত এ মৎস্যজীবী সমাজের প্রধান অবলম্বন মাছ (ধরা ও বেচা) এবং নৌকা চালনা। এ মাহিমাল্লারই অপভ্রংশ হচ্ছে মাহিমাল বা মাইমল।

নদীনালা, হাওড়-বিল-জলাশয়ে পূর্ণ সিলেট জেলার প্রায় এক তৃতীয়াংশই জলাভূমি এবং এর প্রায় এক পঞ্চমাংশ লোকই হচ্ছে এই মাইমল সমাজের। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকির হাওর এবং গিনেজ বুকভুক্ত বাংলাদেশের বিদেশী পাখীর একমাত্র অভয়ারণ্য টাঙ্গুয়ার হাওর সিলেট জেলায়ই অবস্থিত-যা বর্তমানে সিলেট বিভাগ নামে অভিহিত।

বাংলাদেশের বৃহত্তম নদী মেঘনার উৎপত্তিও এ জেলারই প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারা জলস্রোত থেকেই। উত্তরের খাসিয়া, জৈন্তা পাহাড় ও পূর্ব দিকে অবস্থিত লুসাই পাহাড় ও পার্বত্য ত্রিপুরার পাহাড়সমূহের প্রস্রবণাদি থেকে উৎসারিত জলরাশি এ জেলা তথা বিভাগে বিশাল বিশাল হাওর ও বিলের জন্ম দিয়েছে। এসব নদীনালা ও জলাশয়ের তীরে বসবাসরত কোটি জনতা স্বাভাবিকভাবেই তাদের জীবিকার জন্য মাছ ও নৌকার উপর নির্ভরশীল। এটাই বাস্তবতা। এটা কোনো অপরাধ নয়। মাছেভাতে বাঙালী -কথাটা যেমন সত্য, তেমনি কৃষিজীবীদের অব্যবহিত পরেই এ মৎস্যজীবী সমাজের নাম আসবে এটাই স্বাভাবিক।

একমাত্র কৃষি ছাড়া অন্য কোনো পেশায় এত বেশি সংখ্যক লোক জড়িত নেই। বৃহৎ রাজনৈতিক দলসমূহ তাই অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কৃষকদল, শ্রমিক দলের পাশাপাশি তাদের মৎস্যজীবী দলও সংগঠিত করে থাকেন।

কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, এ দ্বিতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠিই সিলেট বিভাগে যুগ যুগ ধরে উন্নাসিকতা ও অবহেলার শিকার। দেওয়ান-চৌধুরীদের মতো সেই শেরশাহী আমলের অভিজাতদের বর্তমান প্রজন্ম তো বটেই সাধারণ কৃষক ও চাষা-ভূষারাও, যাদেরকে উপর তলার লোকজন ‘কিরান’ বলে উপেক্ষা করেন, তারাও মাইমল বংশোদ্ভুত বা তাদের এলাকাবাসী জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিদের প্রতি পর্যন্ত কটাক্ষ করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না।

এ যুগের উন্নত ও শিক্ষিত পরিবেশে যেখানে উচ্চশিক্ষিত মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ের লোকেরা পর্যন্ত নিজেদের পরিচয় দিতে চাষী ও শ্রমিক নেতা শব্দটি ব্যবহারে গর্ববোধ করেন তখন মাইমল শব্দটি একটি গালিরূপে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ফলে এ সমাজের কোটিপতি, শিল্পপতি, সচিব-যুগ্মসচিব এবং ডক্টরেট করা উচ্চ শিক্ষিত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পর্যায়ের লোকেরা পর্যন্ত হীনম্মন্যতার শিকার হয়ে থাকেন। বংশ-গোত্রপরিচয়ে পরিচিত হওয়াটাকে লজ্জাজনক বিবেচনা করেন।

আমার জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছা করে, যারা হাজারো বাধা-বিপত্তি ও প্রতিকূলতাকে ডিঙ্গিয়ে উচ্চ শিক্ষিত ও বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন, বাস্তবে যারা মৎস্যজীবী নন; বরং কথিত দেওয়ান-চৌধুরীদেরও অনেক অনেক উপরে উঠে গেছেন তাদের পূর্বপুরুষের পরিচিতি তাদেরকে ছোট করবে কেন? এ তো তাদের অসাধারণ মেধা ও কৃতিত্বেরই সাক্ষ্যবহ। এরূপ উচ্চ পর্যায়ের লোককে যারা বাঁকা চোখে দেখে থাকে, তাদের চেয়েও ঐ হীনম্মন্যতার শিকার ব্যক্তিদেরকে আমরা কোনোমতেই কম মূঢ় মনে করি না। এরূপ কুসংস্কার ও হীনম্মন্যতা সর্বোতভাবে বর্জণীয়। বিশেষত সিলেটের মাইমল সমাজের বিরাট ঐতিহ্য এবং সভ্য ও উন্নত সমাজ বিনির্মাণে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিও রয়েছে।

১৯১৩ সালে সিলেটের উপকণ্ঠে কানিশাইল মাঠে সিলেট জেলার মুসলিম মৎস্যজীবী সমাজের একটি সভায় উপস্থিত হয়ে সিলেটের তদানীন্তন অন্যতম সমাজপতি ও কর্মবীর সৈয়দ আবদুল মজীদ সি. আই. ই ওরফে কাপ্তান মিয়া একটি উচ্চ পর্যায়ের ধর্মীয় মাদরাসা সিলেট শহরে প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ফান্ড গঠনের উদাত্ত আহবান জানালেন। সিলেটের মফস্বল এলাকায় তখনও কয়েকটি বিখ্যাত মাদরাসার অস্তিত্ব থাকলেও হযরত শাহজালালের স্মৃতিধন্য সিলেট শহরে তখন কোনো মাদরাসা ছিল না। তাই কাপ্তান মিয়ার উদাত্ত আহবানে সাড়া দিয়ে উপস্থিত মৎস্যজীবী ব্যবসায়ীগণ তাৎক্ষণিকভাবে চাঁদা তুলে একটি বিরাট তহবিল তাঁর হাতে তুলে দেন। ঐ টাকা দিয়ে দরগাহে শাহজালালের পূর্ব দক্ষিণে অবস্থিত বর্তমান সরকারী আলিয়া মাদরাসা মাঠসহ মাদরাসার গৃহাদি নির্মাণের উপযোগী বেশ কয়েক একর ভূমি কেনা হয় এবং প্রয়োজনীয় নির্মাণকার্যাদিও সম্পন্ন করা হয়। সাথে সাথে আধুনিক শিক্ষার সুবিধার জন্য হাই মাদরাসাও দশম শ্রেণী পর্যন্ত রাখা হয়। এভাবেই গড়ে উঠে বাংলাদেশ ভূ-খন্ডের প্রথম সরকারী আলিয়া মাদরাসাটি। পরবর্তীতেই কাপ্তান মিয়া যখন আসাম প্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী তখন তাঁরই উদ্যোগে ও পৃষ্ঠপোষকতায় সরকার কলকাতা আলিয়া মাদরাসার মতো দক্ষিণ-পূর্ব ভারতের এ দ্বিতীয় সরকারী মাদরাসার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

কাপ্তান মিয়াকে যখন বন্ধুবান্ধবগণ জিজ্ঞাসা করলেন, এত বড় মহৎ কাজের জন্য তিনি মাইমল সমাজের দ্বারস্থ হলেন কেন। তখন তিনি জবাবে বলেছিলেন, এ সমাজের দ্বারা যে কত বড় বড় কাজ হতে পারে আর এরা যে কোনোভাবেই উপেক্ষণীয় নন-এ কথাটি সকলের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই আমি এমনটি করেছি।

কাপ্তান মিয়ার দৌহিত্র সাংবাদিক আবু সালেহ চৌধুরী ভাই তার ‘বিস্মৃত কাপ্তান’ নামক জীবনীপুস্তকে এ তথ্যটি পরিবেশন করেছেন। আমার প্রতি অত্যন্ত স্নেহপ্রবণ সালেহ ভাই নিজেও এ কথাটির প্রতি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সিলেট বিভাগের বড় বড় আলেম তো বটেই, বি.বাড়িয়ার ফখরে বাঙ্গাল মাওলানা তাজুল ইসলাম রাহ. রায়ের বাজার বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞের অন্যতম শিকার মাওলানা অলিউর রহমান, পশ্চিমবঙ্গ জমিয়তে উলামার সভাপতি ও কলকাতা সরকারী আলিয়া মাদরাসার ভূতপূর্ব হেড মাওলানা সুলেখক ও আধ্যাত্মিক সাধক মাওলানা মুহাম্মাদ তাহির রাহ. পূর্ব ভারতের আমীরে শরীয়ত ও আসাম রাজ্যসভার আজীবন সদস্য মাওলানা আবদুল জলীল রাহ., বাংলা ভাষার সবচেয়ে গোছানো সীরাতুন্নবী গ্রন্থলেখক মাওলানা তাফাজ্জল হোসেন, ঢাকার কায়েদে আজম (পরবর্তীতে সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যাপক) মাওলানা হেলালুদ্দীন, বরিশালের পাঙ্গাসিয়া আলিয়া মাদরাসার সাবেক প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা শাহ মুহাম্মাদ ফারূক প্রমুখসহ বাংলাদেশ ও আসামের অন্যান্য জেলার অনেক বড় বড় আলেমও এ মাদরাসা থেকেই লেখাপড়া করে কর্মজীবনে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।

পরবর্তীতে জেলার অন্য দুটি বিখ্যাত টাইটেল মাদরাসা মাওলানা মোহাম্মাদ আলী রায়পুরী রাহ. প্রতিষ্ঠিত জকিগঞ্জ থানার লামারগাও মাদরাসা এবং সিলেট সদর থানার ফতেহপুর তাঈদুল ইসলাম টাইটেল মাদরাসা (সাইন্স ল্যাবরেটরিসহ) যা ইদানীং পরীক্ষার ফলাফলের দিক থেকে গোটা বাংলাদেশের অন্যতম উন্নত মাদরাসা এবং পঞ্চগাঁও এলাকায় বৈরাগীর বাজার মাদরাসাও এ সমাজের লোকদের দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত।

সিলেট শহরের কাজির বাজার কওমী মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠালগ্নে এর সিংহভাগ খরচও আসত এই মাইমল সমাজের হাত গলিয়েই। মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাকালে ভাতালির হাজী মুহাম্মাদ খুরশিদ আলী মরহুম ও তার পুত্র হাজী নুরুল ইসলামের যথেষ্ট অবদান ছিল, যারা এ মাইমল সমাজেরই লোক।

সদর থানার হায়দরপুর নিবাসী (টুকের বাজার এলাকা) হাজী আবদুস সাত্তার এমনি এক দানবীর লোক ছিলেন, যার দান সিলেট বন্দর বাজারের জামে মসজিদ থেকে জেলার প্রায় সকল বড় বড় মাদরাসায়ই সুদীর্ঘকাল পর্যন্ত পৌঁছেছে।

এ সমাজেরই কলাপাড়া বহর নিবাসী হাজী বশীরুদ্দীন মরহুমের পুত্র জনাব মুঈনুদ্দীন স্বউদ্যোগে সিলেটে সফলভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করে আসছেন, যার সুফল দেশবাসী ভোগ করে আসছেন।

সিলেট রাজা জিসি হাইস্কুলের সুদীর্ঘকালের হেড মাস্টার জনাব আবদুল মুকীত মরহুম এবং মদনমোহন কলেজের অবসরপ্রাপ্ত ভাইস প্রিন্সিপ্যাল টুকের বাজার শেখপাড়া নিবাসী অধ্যাপক আকরম আলী (সিলেট হাই মাদরাসায় পড়া) সুনামগঞ্জের অধ্যাপক আফাজুদ্দীন এবং হাইস্কুলের হেড মাস্টাররূপে জনাব আলী ফরীদ প্রমুখ শিক্ষকগণ তাদের সুদীর্ঘ শিক্ষকতার জীবনে হাজার হাজর ছাত্রকে পাঠদান করে মানুষ গড়ার স্বার্থক কারিগররূপে বিরাট ভূমিকা রেখেছেন।

আলী ফরীদ সাহেবের এক পুত্র বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবরূপে এবং গোবিন্দগঞ্জের দীঘলি গ্রামের দানাই হাজী সাহেবের পুত্র আকমল হোসেন এবং ইটার জনাব জমীরুদ্দীন বাংলাদেশ সরকারের কৃতি সচিব ছিলেন। বর্তমানেও দুজন সচিব এ সমাজের সন্তান।

মুসলিমসমাজে বাংলা ও আসাম প্রদেশে নারী-শিক্ষার তেমন কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। ১৯২৪ সালে কলকাতায় বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল প্রতিষ্ঠার বার বছরের মাথায় ১৯৩৬ সালে সিলেট শহরের শেখঘাটে মৎস্যজীবী সমাজের কৃতি পুরুষ শেখ সিকান্দার আলী মরহুম (১৮৯১-১৯৬৪) তার মায়ের নামে মঈনুন্নেসা গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশ আমলে এ প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়টি যখন হাই স্কুলে রূপান্তরিত হয় তখন কিছু অকৃতজ্ঞ, বিদ্বিষ্ট ও স্বার্থপর শ্রেণীর লোক স্কুলের সাইনবোর্ড থেকে শেখ সিকান্দার আলী ও তার মহিয়সী মায়ের মুঈনুন্নেসা নামটি মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু সচেতন লোকদের প্রতিবাদের মুখে তারা এ হীন ষড়যন্ত্র কার্যকর করতে পারেনি।

সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্যসংসদ সিলেটবাসীর অনন্য গর্বের ধন। সিলেট আলিয়া মাদরাসারই ছাত্র তমঘায়ে খিদমত উপাধি লাভকারী মৌলবী নূরুল হক যাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা লাভ করে এত বড় একটি কীর্তি রেখে যেতে পেরেছেন আমাদের ঐ শেখ সেকান্দার আলীর নাম ছিল দ্বিতীয় স্থানে। এ ব্যাপারে সরে কওম এ জেড আবদুল্লাহ মরহুমের পরই তার স্থান।

মৌলবী নূরুল হক লিখিত মাসিক আলইসলাহের দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের শুরুর দিকের অধিকাংশ সম্পাদকীয় এবং সংসদের বার্ষিক প্রতিবেদনে এর অকুণ্ঠ স্বীকারোক্তি রয়েছে।

সম্পাদক সাহেব আমাকেও এ কথাটি বহুবার বলেছেন যে, মাসিক সাহিত্যসভা সে যুগে মুসলমানদের মধ্যে কল্পনাও করা যেত না। মাসিক সভায় চা-নাশতা দিয়ে উপস্থিত সুধীমন্ডলীকে আপ্যায়নের একটা খরচও ছিল। শেখ সিকান্দার আলী সাহেবের ঐ যুগের বিখ্যাত শেখঘাটস্থ আনোয়ারা উড ওয়ার্কসই ছিল আমাদের প্রতিমাসের সাহিত্যসভার নির্ধারিত স্থান। তিনি হাসিমুখে সকলকে আপ্যায়ন করতেন। এভাবেই কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের ইতিহাসের পরতে পরতে শেখ সিকান্দার আলী জড়িয়ে রয়েছেন।

শিক্ষা ও সংস্কৃতির মূল্য বোঝেন এমন ব্যক্তিরা শেখ সিকান্দার আলীকে শ্রদ্ধা না করে পারেন না। তাই তার মৃত্যুর পর কবি আমীনুর রশীদ চৌধুরী সাপ্তাহিক যুগভেরীতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দীর্ঘ সম্পাদকীয় লিখেছিলেন। সিলেটের মাটি ও মানুষ এবং সিলেটের এক শ একজন প্রভৃতি গ্রন্থের লেখক গ্রুপক্যাপ্টেন ফযলুর রহমান সিলেটের কৃতি পুরুষদের জীবনীগ্রন্থে শ্রদ্ধার সাথে তার উল্লেখ করে নিজেও তার প্রতি অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন।

(চলবে ইনশাআল্লাহ)

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!