সলাতে আল্লাহ দর্শন

মো:মোশারফ হোসেন
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরা সলাত প্রতিষ্ঠা করো”।ইসলামের ইবাদত সমূহের মস্তক হল সলাত। মস্তক বিহীন যেমন কোন মানুষ চেনা যায়না তেমনি সলাত বিহীন কাউকে মুসলিম বলা যায়না।কারণ-একজন মানুষের উপর ইমান আনার পর যে কর্মটি সর্ব প্রথম আবশ্যক হয়ে প্রভাব বিস্তার করে তা হলো সলাত। আর এ আবশ্যক কর্মটি প্রশংসনীয় পদ্ধতিতে সম্পাদনের স্থান হলো একত্রে এবং মসজিদে। আর সময় হলো দিনে ও রাতের রাসুল (স) এর দেখানো সময়ে।এভাবে অনেক সংখ্যক বিশ্বাসী মানুষ একসাথে সলাত সম্পাদন করে গঠন করেন জামাত বা দল এবং প্রত্যেকের এককভাবে পরিচয় তখন মুসল্লি। যেখানে সকলের অনুভূতি একই সরল রেখায় পরিচালিত হয়। একজন মুসল্লিকে কতগুলো নির্দিষ্ট ও আবশ্যক নিয়ম অনুসরণ করে এ কর্ম সম্পাদন করতে হয়। যেমন-সবিনয়ে দাঁড়ানো,কুরআন থেকে আবৃত্তি করা,রুকু-সিজদা করা এবং বসে এমন কিছু তাসবিহ ও দোয়া পড়ে থাকেন যার মধ্য দিয়ে একজন মুসল্লি অসীম,অপার এবং অব্যক্ত সুখানুভুতির অমোঘ ছোঁয়া অনুভব করেন। একজন মুসল্লি যখন ধর্মমত পবিত্র হয়ে প্রশান্ত চিত্তে গাম্ভীর্যপূর্ণ ধৈর্য ও মেজাজে আল্লাহর সামনে তাঁরই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দাঁড়ায় তখন তিনি যেন আত্মিক জগতে জান্নাতের সীমানায় পৌঁছে যায়। যেখানে কুরআন তিলাওয়াত জাহান্নামের শাস্তি ও জান্নাতের বিভিন্ন নিয়ামতের বর্ণনা সর্বোপরি আল্লাহর ভয় তাকে পেছনের দুনিয়াকেই ভুলিয়ে দেয়। তিলাওিয়াতের অতুলনীয় সুরের ব্যঞ্জনা,আকাশ সমূহ ও জমিনের শ্যামলিমায় পাখা মেলে অবাধ বিচরণ, কখনো নদী ও সাগরের ঢেউয়ে দোল খাওয়া, কখনো ঐতিহাসিক ঘটনার ঘনঘটা রোমন্থন কখনো মহাজাগতিক বর্ণনায় বিস্মিয়াভিভুত কখনো বা আল্লাহর ক্ষমতার ঘোষণায় আনুগত্যের আবেগে আপ্লুত হয়ে অশ্রু সজল হয়ে পড়া যেন মুসল্লির জন্য অনিবার্য ওঠে। আর সলাতের রুকু-সিজদা তাকে আল্লাহর এতটা নিকটবর্তী করে দেয় যেন তখন বান্দা আর আল্লাহর মাঝে কোন দূরত্ব থাকেনা। এভাবে একজন মুসল্লি সলাতের মধ্য দিয়ে পৃথিবীতেই যেন আল্লাহ দর্শনের বর্ণনাতীত জান্নাতি তৃপ্তি লাভ করেন। যে কোন মুসল্লি দিনে পাঁচ বার এ অফার উপভোগ করতে পারেন।আর তাই সলাত আদায়কারীর হৃদয় সর্বদা মসজিদের দরজায় লটকানো থাকে। পৃথিবীর কোন ব্যস্ততা তাকে ভুলিয়ে রাখতে পারেনা আল্লাহর সাথে দিদার হওয়ার অনাবিল আনন্দ থেকে। আমাদের নবী মুহাম্মদ (স) কে দেখা যায় তাঁকে অবসর কিম্বা দুশ্চিন্তা পেয়ে বসলেই তিনি সলাতে দাঁড়িয়ে যেতেন। এমনকি প্রত্যেক নবী-রাসুলই সালাতের মত অতুলনীয় জীবন ঘনিষ্ঠ ইবাদত নিত্য দিনই আদায় করতেন। মর্তের পৃথিবী থেকে জান্নাতের সুঘ্রাণ ও সুখ উপভোগ করার এমন ইবাদত ইসলামে আর নেই।ইসলামের সমস্ত ইবাদতের নির্যাস এর মধ্যে এমনভাবে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে যে ধনী-নির্ধন,রাজা-প্রজা,যুবক-বৃদ্ধ সকলেই সমানভাবে গ্রহণ করতে পারে।হাদিসে এটাকে ধর্মের খুটি বলে আখ্যায়িত করেছে।রাসুল (স) বলেন, “সলাত হলো দ্বীনের খুটি;যে ব্যক্তি সলাত প্রতিষ্ঠা করল সে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করিআর যে ব্যক্তি সলাত নষ্ট করল সে দ্বীন নষ্ট করল”।এ সলাত বিশ্বাসী-অবিশ্বাসীর মধ্যে পার্থক্য নিরুপনকারী।যে কোন অশ্লীলতা ও বদঅভ্যাস থেকে হেফাযতকারী।হাইপার টেনশান ও হার্টের জন্য উপকারী।যারা এমন দুনিয়াবী ও পরকালীন উভয় জীবনে উপকারী অফার পরিত্যাগ করে তারা নি:সন্দেহে হতভাগা।
Md.Mosharaf Hossain
M.phil(Fellow),IU, Kushtia

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!