শাহজালালের কাস্টমসে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ফরাসি নাগরিকের মালামাল রেখে হেনস্তার অভিযোগ

Image may contain: 1 person, smiling, standing and outdoor

জানা গেছে, ফ্রান্সের প্যারিস থেকে ৭ আগস্ট স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কুয়েত এয়ারওয়েজে চড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন আহামেদ ফরিদ। ৮ আগস্ট সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে নামেন তিনি। কিন্তু বেল্ট থেকে লাগেজ নিয়ে বের হওয়ার সময় ঢাকা কাস্টম হাউসের লোকজন তাকে আটকায়। এরপর কীভাবে তিনি ফরাসি নাগরিক হলেন, কীভাবে ফরাসি পাসপোর্ট পেলেন, এসব নিয়ে প্রশ্ন করেন। একপর্যায়ে পাসপোর্ট আটকে রাখেন তারা। একইসঙ্গে তার কাছ থেকে চারটি পারফিউম, একটি ভ্যানিটি ব্যাগ ও ১০০ ইউরো রেখে দেয় কাস্টম হাউসের লোকজন। ঘটনার সময় আর্মড পুলিশ সদস্যরা খোঁজ নিতে এলে তাকে দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে আহামেদ ফরিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কাস্টমসে দায়িত্বরত আবুল নোমান ও আব্দুর রহমান রাফি আমার লাগেজ খুলে চারটি পারফিউম ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে নেয়। কিন্তু এগুলো জমা রাখার কোনও স্লিপ আমাকে দেওয়া হয়নি। এছাড়া ১০০ ইউরো নিয়েছে এই দু’জন। কেন এসব তারা রাখছে সেই ব্যাখ্যাও দেয়নি। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ওই দুই কাস্টমস সদস্য হুমকি দেন— আমার পাসপোর্ট আটকে রাখা হবে ও ছাড়িয়ে নিতে ১ লাখ টাকা লাগবে। ঢাকায় এসে এমন পরিস্থিতিতে পড়ে তখন আমার মানসিক অবস্থা ভালো ছিল না। তাই বেশি কথা না বাড়িয়ে বেরিয়ে এসেছি।’

অভিযোগকারী আহামেদ ফরিদ আরও বলেন, ‘আমার সঙ্গে কয়েক বোতলে ২ লিটার অ্যালকোহল ছিল। বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকরা ১ লিটার অ্যালকোহল আনতে পারে, এ তথ্য জানায় কাস্টমস কর্মকর্তারা। পরে আমাকে ১ লিটার অ্যালকোহল দিয়ে বাকিটা তারা রেখে দেয়। তবে শুধু অ্যালকোহলের জন্য তারা আমাকে একটি রশিদ দেয়। দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে আমি ভাবিনি। তারা যেভাবে পাসপোর্ট রেখে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল, তাতে আমি ভীত হয়ে পড়ি।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার রেজাউল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এমন কোনও ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই।’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!