র‍্যাবের সাবেক অধিনায়ক হাসিনুরকে ‘তুলে’ নেওয়ার অভিযোগ

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব)-৭ এর সাবেক কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল (চাকরিচ্যুত) হাসিনুর রহমানকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে বাসা থেকে তুলে নেয়ার অভিযোগ করেছেন তার পরিবার।

র‌্যাব জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে হাসিনুর রহমানের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে কাজ করছেন তারা।

তবে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ। তাকে তুলে নেওয়ার ঘটনা গোয়েন্দা পুলিশও অস্বীকার করেছে।

গত বুধবার রাতে রাজধানীর পল্লবীতে নিজ বাসার সামনে থেকে মাইক্রোবাসে করে হাসিনুর রহমানকে তুলে নেওয়া হয় বলে গণমাধ্যমকে জানান তার স্ত্রী শামীমা রহমান। সেদিন রাতেই তিনি পল্লবী থানায় অভিযোগ করেন।

শামীমা রহমান বলেন, বুধবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে মিরপুরের ডিওএইচএস ১১ নম্বর রোডের  বোনের বাড়ির সামনে থেকে দুটি হাইয়েস মাইক্রোবাস করে এসে কয়েক ব্যক্তি হাসিনুর রহমানকে তুলে নিয়ে যায়।

জানতে চাইলে পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘হাসিনুর রহমান তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’

পুলিশ অবশ্য বলেছে, আগে হাসিনুর রহমানের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল। এসব বিষয়ও তদন্ত করা হচ্ছে।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে ঈদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জানাতে এক সংবাদ সম্মেলন করেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ।

সেখানে হাসিনুর রহমান নিখোঁজের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অনেক মানুষকেই তো খুঁজে পাওয়া যায় না। খুঁজে না পাওয়াটা শুধু বাংলাদেশে নয়, আমেরিকা, বৃটেন, ইউরোপেও মানুষ নিখোঁজ হয়। একজনকে খুঁজে না পাওয়াটা মানেই কোনো বাহিনীর ব্যর্থতার বিষয় নয়। নিখোঁজ হওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে।’

‘‘তবে বিষয়টা সম্পর্কে আমরা জ্ঞাত রয়েছি। আমাদের পক্ষ থেকে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি। যদি কারো কাছে কোনো তথ্য থাকে তাহলে আমাদেরকে জানাবেন।’’

জানা গেছে, ২০০৯ সালের অক্টোবরে হিযবুত তাহরীর নিষিদ্ধ ঘোষণার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র শিক্ষক ও হিযবুত তাহরীরের উপদেষ্টা গোলাম মহিউদ্দিন গ্রেপ্তার হন। তার জবানবন্দী থেকেই হাসিনুর রহমানের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া যায়। তখন হাসিনুর রহমান র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক ছিলেন।

সেনাবাহিনীতে চাকরির সময় হাসিনুর রহমান রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় দণ্ডিত হয়ে পাঁচ বছরের জেল খেটে ২০১৪ সালে মুক্তি পেয়েছিলেন।

তিনি এক সময় র‌্যাব-৫ ও র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিজিবিতেও বেশকিছু দিন দায়িত্ব পালন করেন।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!