মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসুদ ও একটি শিশুর গল্প :মাওলানা মামুনুল হক

আমার ছোট ছেলে যিয়াদ ৷ চলতি ডিসেম্বরের ২৪ তারিখ ওর দুই বছর পূর্ণ হবে ৷ এই বয়সের বাচ্চারা খুব মজার হয় ৷ ওদের প্রতিটি আচরণই উপভোগ করার মত থাকে ৷ একটু একটু কথা বলতে শিখে ৷ মুহুর্তে মুহুর্তে হাসি -কান্নার পার্শবদল হয় ৷ ছোট ছোট আনন্দে যেমন এরা হাসিতে লুটোপুটি খায় আবার সামান্য ব্যাথায় কেঁদে আকাশ মাথায় তোলে ৷ মান-অভিমানটাও বেশ রপ্ত হয়ে যায় এই বয়সে ৷ মায়ের সাথে ভাব বিনিময়ের বিচিত্র রসায়ন তৈরি হয় এই বয়সী শিশুদের ৷

যিয়াদ যথেষ্ঠ রাগী বাচ্চা ৷ খাওয়া-দাওয়া, শোয়া-পরা সব কিছুতেই জেদ ধরার প্রবণতা ৷ খাবে না তো খাবেই না! মতের বিরুদ্ধে ওকে খাওয়ানো মানে ঘরের মধ্যে রীতিমত এক যুদ্ধ বাধিয়ে দেয়া ৷ জোর করে মুখের মধ্যে খাবারের লোকমা তুলে দিলেও কতক্ষন মুখে রেখে ফেলে দিবে ৷ ওর মতের বাইরে কোনো কিছু ও মানে না ৷ এমন জেদি বাচ্চাকে বশে আনা চাট্টিখানি কথা না ৷ কিন্তু মানসিকতা বুঝে বিভিন্ন কৌশলে যিয়াদের আম্মু ওকে মানিয়ে নেয় ৷ মা-পুত্রের সমন্বয়ের চমৎকার সেই দৃশ্যগুলো আমি দেখি আর চমৎকৃত হই ৷ ইদানিং যিয়াদের আম্মু যিয়াদের একটা স্বভাব আবিস্কার করেছে, কোনো বিষয়ে নিষেধ করলে সেটা ও আরো বেশি করে ৷ তাই, যেই কাজ ওকে দিয়ে করাতে হবে সেটা করতে না বলে নিষেধ করতে হবে ৷ এতে সেই কাজটা ও সহজেই করবে ৷ খাওয়ানোর সময় বলবে, খবরদার তুমি কিন্তু খাবে না! ওমনি যিয়াদ এসে মায়ের হাতের লোকমা ঘপাশ করে গিলে ফেলবে! একরোখা জেদি শিশুকে বাগে আনার এই অভিনব কৌশলটি অনেক মা-ই নিজ সন্তানের উপর প্রয়োগ করে সফল হতে পারেন ৷

সময়ের আলোচিত শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড মুফতী মাওলানা ফরিদ মসউদ সাহেবের সাম্প্রতিক কার্যকলাপ আর দীর্ঘদিনের ভূমিকার পর্যালোচনায় যিয়াদের কথা মনে পড়ল৷ গ্র্যান্ড মুফতী সাহেবের ব্যাপারে আমাদের ছাত্রজমানাতে অনেক কথা শুনতাম ৷ তিনি নাকি হযরত শাইখুল হাদীস রাহিমাহুল্লাহর ঘোর সমালোচনা করতেন৷ ব্যপারটাকে কখনই খুব জটিলভাবে চিন্তা করিনি৷ ওলামায়ে কেরামের মাঝে হালকাওয়ারী ইখতেলাফের কারণে কিছু অভিযোগ সমালোচনা থাকা স্বাভাবিক ব্যপারের মত মনে করেছি ৷ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীগত মতপার্থক্যকে আমি খুব বেশি গুরুত্ব দেয়ার পক্ষপাতি নই ৷ মাওলানা ফরিদ মসউদ সাহেবের বিষয়টাকেও আমি এমন মতপার্থক্যের মধ্যেই গণ্য করতাম ৷ বরং আমাদের নিজস্ব হালকার অনেকের চেয়ে আমি ওনাকে প্রাধান্য দিতাম একজন চিন্তাশীল আলেম বিবেচনায় ৷ “অশিক্ষিত বন্ধুর চেয়ে শিক্ষিত শত্রু ভালো”র সূত্র মোতাবেক সহমতের লোকজনের চেয়েও বরাবর ওনার গুরুত্ব আমার কাছে বেশি ছিল ৷

চারদলীয় জোটসরকারের আমলে ওনার কারাভোগে আমরা ব্যথিত ও মর্মাহত ছিলাম ৷ নিজেদের সামর্থের আলোকে ওনার কারামুক্তির জন্য যতটুকু সম্ভব চেষ্টা আমরা করেছি ৷ হযরত শায়খুল হাদীস রাহিমাহুল্লাহর রাজনৈতিক পরিচয়ও তখন কাজে লাগানো হয়েছে ৷ ওনার মনে আছে কি না সেটা অবশ্য জানি না ৷ ওনার মুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনায় আমি উপস্থিত হয়েছিলাম এবং বক্তব্য রেখেছিলাম ৷ জাতির অন্যতম মেধাবী আলেম হিসাবে আখ্যায়িত করে ওনার কারানির্যাতনের প্রতিবাদ করেছিলাম৷ শুধু ঢাকায়ই না, ঢাকার বাইরেও ওনার সফরসঙ্গী হয়ে সংবর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়েছি ৷ একজন চিন্তাশীল গবেষক সৌজন্যতাবোধসম্পন্ন আলেম হিসাবে ওনার প্রতি সুধারণার প্রেক্ষিতেই ছিল আমার এই ভূমিকা ৷ জঙ্গীবাদবিরোধী ওনার লক্ষ আলেমের ফতোয়া সংগ্রহের কর্মসূচীকেও ইতিবাচকভাবে বিশ্লেষণ করেছিলাম ওনাকে আপাদমস্তক একজন দেওবন্দী চিন্তার আলেম হিসাবে বিশ্বাস করেই ৷

তবে একটু একটু করে আমার মোহভঙ্গ হতে থাকে ৷ আমি প্রথম হোচট খাই কারামুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনায় ওনার দরবারে মিছবাহুর রহমান চৌধুরির ইম্পর্টেন্স দেখে ৷ এই ধরণের একজন নীতিহীন লোকের যার কাছে এত গুরুত্ব, তাকে আর যাই হোক আমার কাছে ভাবগম্ভির কোনো চিন্তাশীল মানুষ ভাবতে ইতস্তত বোধ হয়েছে ৷ এরপর পথ চলতে গিয়ে যখন দেখলাম “ইসলামে শ্রমিকের অধিকার”সহ অসাধারণ অনেক গ্রন্থ রচয়িতা একজন লেখক মানুষ লেখালেখি ও গবেষনামূলক কাজের চেয়ে ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিভিন্ন তৎপরতায় বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন, এতে আমার দুঃখবোধ বৃদ্ধি পায় ৷ এরপর কওমী সনদের স্বকৃতি ইস্যুতে ওনার ভূমিকাও ওলামায়ে কেরামের মাঝে ঐক্যের পথে অন্তরায় সৃষ্টিকারী বলে মনে হয় ৷ ওনার ভূমিকার কারণে কওমী ওলামায়ে কেরামকে সরকারের কাছে নতজানু হতে হয়েছে ৷ এরপর আসে শাহাবাগের বিতর্কিত অধ্যায় ৷ উনি শুধু শাহাবাগে গিয়েই ক্ষ্যান্ত হননি, বরং শাহাবাগী আন্দোলনকে পূণ্যময় হিসাবে ঘোষনা দিয়েছেন, হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে পাল্টা কর্মসূচী নিয়ে মাঠে নেমেছেন ৷ দেশ যখন দুইভাগে বিভক্ত, তখন তিনি ইসলামবিদ্বেষীদের সাথে অবস্থান করেন ৷ জঙ্গীবাদবিরোধী ওনার ফতোয়ার বিষয়টিও অনেকটা পরিস্কার ৷ জিহাদ ও জঙ্গীবাদ বিষয়ে ওনার বিশ্বাস ও বক্তব্য যে সেক্যুলারদের প্রতিধ্বনি, সেটা ইতিমধ্যে নানাভাবে ফুটে উঠেছে ৷

সর্বশেষে মাওলানা সা’দ কান্ধলভীকে নিয়ে সৃষ্ট বিভক্তির সময়ও তিনি অবস্থান নিলেন বাংলাদেশের শুধু জমহুর নয় ঐক্যবদ্ধ ওলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে ৷ শুধু পক্ষই নেননি, বরং অনেকটা প্রতিনিধিত্বও করছেন ৷ এটা যে উনি খুব ভেবে-চিন্তে করেছেন, আমার কাছে এমন মনে হয় না ৷ বরং মনে হয়, সকলের বিপরিতে চলার যে একটা স্বভাব গড়ে উঠেছে, করেছেন সেই স্বভাবের তাড়নায় ৷ উনি দেওবন্দের মাওকিফ সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, আবার নিজে সা’দ সাহেব সম্পর্কে যা বলেছেন, ওনার কথাগুলো লক্ষ করলেই এটা ফুটে ওঠে ৷ সে যাই হোক, এটা নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্চ করার কিছু ছিল না এবং করিওনি কখনো ৷

তবে ১লা ডিসেম্বরের নারকীয় হামলাযজ্ঞে ওনার প্রত্যক্ষ মদদের ঘটনা যখন প্রকাশ পেল তখন তো স্বাভাবিকভাবেই কিছু বলতে হয়! কি নৃশংসভাবে ওরা হামলা চালিয়েছে, আর কি করুণ আহাজারীতে মাদরাসাগুলোর বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে, সেই দৃশ্য দেখার পর আর সে রাতে হামলাকারীদেরকে পরিকল্পিত উপায়ে ওনার আশ্রয় দেয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর ওনার উপর দায় চাপানোর মত ধৃষ্টতা দেখানো ছাড়া আর কী উপায় থাকতে পারে? ঝিলপাড় মসজিদ কিংবা ইকরা মাদরাসা মসজিদে কয়েক হাজার সা’দপন্থী লোকের অবস্থান অন্য দশটি মসজিদের মত ঘটনা যে নয়, এটা বুঝার জন্য কি অনেক জ্ঞানী হতে হয়?

(ওনার আশ্রয়ে আট-দশহাজার লোক ইকরা মসজিদে রাত্রিযাপন করছে, এমন তথ্য আগের রাতে শীর্ষ এতাতীদের কাছ থেকেই পাওয়া)

উনি অনেক বুদ্ধিমান মানুষ হতে পারেন, আমাদের মাথায় অত বুদ্ধি না থাকতে পারে, কিন্তু হামলাযজ্ঞে সহায়তাকারী হিসাবে বিচারের কাঠগড়ায় দাড়ানোর মত সংশ্লিষ্টতা যে ওনার রয়েছে, তার স্বাক্ষ-সুবুত আমাদের হাতে বিদ্যমান! গরম ভাতে তো বিলাই ব্যাজার হবেই! পথযাত্রা কর্মসূচীতে এতাতীদের নুসরত নিতে যদি সমস্যা না থাকে, এতাতীদের পক্ষে ধারাবাহিক বক্তব্য দিতে যদি কুন্ঠাবোধ না হয়, বিপুল পরিমাণ হামলাকারীকে আদর-আপ্যায়নে যদি দারাজহস্ত হতে কৃপণতা না থাকে, তাহলে এতাতীদের হামলার দায়ভার নিতে এত আপত্তি কেন?

উচ্চকন্ঠে তিতা কথাটি উচ্চারণ করায় আমার উপর ওনার অনুসারীরা সংক্ষুব্ধ হতেই পারেন! তাই বলে আমাকে এত বড় বড় উপাধী (রক্তলোলুপ, জঙ্গী ইত্যাদি) দিতে হবে? তাচ্ছিল্যের সুরে মৌলভী বলতে হবে? مولوى হওয়া কি খুব খারাপ কথা? মনে করতাম মাওলানা ফরিদ মসউদ সাহেবের একান্ত সহযোগীরা আর কিছু না হোক, অন্তত চিন্তাশীলতার কিছু ছাপ তাদের মধ্যে থাকবে! পরে তো আমি অবাক হলাম খোদ ফরিদ মসউদ সাহেবের মত মহান মানুষের যবানে মুবারকে আমার মত ক্ষুদ্র মানুষকে নিয়ে ব্যঙ্গ শুনে ৷ আর তিনি যখন মুহাদ্দিসুল আসর মুফতী আব্দুল মালেক সাহেবকে নিয়ে পলিটিশিয়ানদের মত উত্তেজিত ভাষায় বিদ্বেষ উদগীরণ করলেন, তখন আমি পুরাই হতাশ হলাম ওনার ব্যাপারে ৷ যাকে আমি চিন্তাশীল ধৈর্যশীল মেধাবী গবেষক আলেমে দ্বীন হিসাবে সমীহ করতাম, তার এই করুণ পরিণতি দেখে আমি নিজের উপরই বিরক্ত হলাম ৷ উনি সকলের সাথে বিরোধ রেখে চলতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন, এটা ওনার বহুদিনের অভ্যাস, কিন্তু আব্দুল মালেক সাহেবের মত একজন সর্বজনবিদিত ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে এমন উত্তেজিত ভাষায় বিষোদগার করবেন, এতটা অবনতি ওনার হয়েছে, কথাটা বিশ্বাস করতে কষ্টই হচ্ছে ৷

আমার উপর ক্ষিপ্ত হওয়ার একটা কারণ তো বুঝে আসে, কিন্তু আব্দুল মালেক সাহেব কী করলেন? ওনার উপর এমন ক্ষেপলেন কেন গ্রান্ড মুফতী সাহেব? এটা নিয়ে আমি কয়দিন ধরে চিন্তা করছিলাম ৷ হঠাৎ যিয়াদের কথা মনে হওয়ায় রহস্যটা আমার কাছে উদ্ঘাটিত হল ৷

উদঘাটিত রহস্যটা খোলাসা করার আগে একটা গল্প বলি-স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক-হানাদার বাহিনী একজন লোককে মেরে নদীতে ফেলে দেয় ৷ আপনজনরা সংবাদ পেয়ে তার লাশ খুঁজতে থাকে স্রোতের গতিতে সামনের দিকে ৷ কিন্তু অনেক খুঁজেও লাশের সন্ধান মিলল না ৷ তখন তার স্ত্রী সন্ধানকারীদেরকে বলল, তোমরা স্রোতের উজানে খুঁজে দেখেছো? উনি তো সারা জীবন উল্টো চলতে পছন্দ করতেন, তাই মরণের পরেও মনে হয় উজানদিকে গিয়েছেন উনি ৷ পরে তারা উজানে তার সন্ধান করেছিল কি না জানি না , তবে উজানদিকে সন্ধান করে আমি আব্দুল মালেক সাহেবের বিরুদ্ধে ফরিদ মসউদ সাহেবের ক্ষোভের কারণ খুঁজে পেয়েছি ৷ আর সেটা হল, আব্দুল মালেক সাহেবকে এলমী বিষয়ে সবাই গুরুত্ব দেয় ৷ যেহেতু সবাই গুরুত্ব দেয় তাই ফরিদ সাহেব তার উজানে চলেছেন , গুরুত্বহীন করার প্রয়াস পেয়েছেন ৷ জানি না, ওনার এই প্রয়াস কতটা সফল হবে! তবে এতটুকু ইতিমধ্যে জেনে গিয়েছি, ফরিদ সাহেবের প্রতি তার শীষ্যদের যে একটা ঘোর ছিল ৷ যদিও তিনি তার বিশিষ্ট শাগরেদদেরকে নিজের সাথে রাখতে পারেন নি বা রাখেননি, তবুও তার শাগরিদগণ সহজে তার বিপক্ষে মতামত ব্যক্ত করতেন না ৷ কিন্তু এবার তাদের প্রায় সবারই মোহভঙ্গ ঘটেছে ৷ খোদ ওনার ইকরা মাদরাসার ভিতরেও ওনার বিরুদ্ধে তুষের আগুন জ্বলছে ৷ ওনার দক্ষিণহস্ত ইয়াহইয়া মাহমুদ সাহেব প্রকাশ্যে ভিন্ন পথ ধরেছেন ৷ “জুমহুর” বিষয়ে ওনার বিকৃত ব্যাখ্যায় ডঃ মুশতাক সাহেব কঠোর ভাষায় এটাকে জাহালাত সাব্যস্থ করেছেন ৷ কয়জনকে নিয়ে উনি ট্রল করবেন? আর কয়জনের মুখই বা তিনি বন্ধ করবেন? নিজের মুখ সামলানো ছাড়া ওনার কোনো উপায় নেই ৷

সব বিষয়ে সকলের উল্টো পথে চলার মধ্যে এক ধরণের বিকৃত স্বাদ আছে ৷ মনে হচ্ছে, এভাবে চলতে চলতে ওনাকে নেশায় ধরে ফেলেছে ৷ তাই আগামীতে ওনাকে সাথে নিয়ে চলার জন্য যিয়াদের ঐ কৌশলটা অবলম্বন করা যেতে পারে ৷ ওনাকে সকলের পক্ষ থেকে অনুরোধ করতে হবে “হুজুর আপনি সকলের বিপরিতে চলেন ৷ এতে উনি জেদ ধরে বসলেই উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যাবে ৷ উনি সবার অনুরোধ উপেক্ষা করে উজানে চলবেন ৷ আর অভিনব এই কৌশলে সবার সাথে ওনার একটা ঐক্য হলেও হতে পারে!!

[প্রকাশিত যে কোন ব্যাক্তিগত মতামত কলাম, ফিচার ইত্যাদির দায়ভার লেখকের।]

পাবলিক ভয়েসে

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!