মনসুরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে ঐক্যফ্রন্ট ও গণফোরাম

দল জোটের নির্দেশনা অমান্য করায় সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে গণফোরাম ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। শপথ নেয়ার দিনেই তাকে দল এবং জোটের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে কেবল দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে সদস্য পদ থাকবে না বলা হলেও দল বহিষ্কার করলে কী হবে তার স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে যাবে গণফোরাম। আজ শনিবার গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতারা বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসবেন। অন্যদিকে

সোমবার একই বিষয়ে বৈঠক করবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির নেতারা। সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের দল ও জোটের নেতারা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন তার বিরুদ্ধে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

বৃহস্পতিবার গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খানের শপথ গ্রহণের কথা থাকলেও যাননি মোকাব্বির খান। দলের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের অনুরোধে তিনি শপথ নেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

মোকাব্বির খান তার দলীয় প্রধান ড. কামাল হোসেনের ইতিবাচক সম্মতির জন্য আরও কিছু সময় নিচ্ছেন। এদিকে গতকাল ঢাকা মহানগর গণফোরামের এক বর্ধিত সভায় ড. কামাল হোসেন বলেন, মানুষের মাথা কেনা যায় না, গরু-ছাগলের মাথা কেনা যায়। যারা গরু-ছাগলের মতো বিক্রি হয় তারা দালাল হিসেবে পরিচিত।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু মানবজমিনকে বলেন, সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের শপথ গ্রহণের পর দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে হলেও দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেকই নিতে হবে। এর জন্য শনিবার আমাদের গণফোরামের সিনিয়র নেতারা বৈঠকে বসব। পরে সোমবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা একই বিষয়ের উপর বৈঠক করব। সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই আমরা তার বিরুদ্ধে কি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।

গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ করা হয়েছে কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কিছু করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম সংসদে যাব না। আর সুলতান মোহাম্মদ মনসুর সাহেব এটা অমান্য করে সংসদে গেলেন। তাহলে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে চলে গেলেন। এখন ক্ষমতা সরকারের হাতে তারা বলতে পারেন ৭০ অনুচ্ছেদে এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। কিন্তু সবকিছু এ রকম খেয়াল-খুশি মতো করলে তো হয় না। আইনেরও একটা সৌন্দর্য আছে। আমাদের হাতে যতোটুকু করার ক্ষমতা আছে সেগুলো আমরা করব। যে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব সব নেবো।

ডাকসু’র সাবেক ভিপি ও আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর গত নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হলে তিনি জোটের শীর্ষ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য হন। নির্বাচনের আগে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর গণফোরামের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করে দলীয় মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঐক্যফ্রন্টের সমর্থন পান। মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনের পর থেকেই শপথ নেয়ার পক্ষে অবস্থান নেন তিনি। এ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়ায় নির্বাচনের পর থেকে ঐক্যফ্রন্টের কোনো বৈঠকে অংশ নেননি এই নেতা।

পরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর সংসদ সচিবালয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে শপথ নেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। শপথ নেয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের জানান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাকে জানিয়েই তিনি শপথ নিয়েছেন। যদিও এদিন বিকালেই তাকে গণফোরাম থেকে বহিষ্কার করা হয়। 

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!