ভোটের রাজনীতিতে জোটের প্রভাব কতটা পড়বে?

অলিউল্লাহ নোমান

আওয়ামী লীগের সংশোধীত সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আর বেশি বাকী নাই। অক্টোবরের ভেতরেই নির্বাচনের চুড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে হবে। গঠন করা লাগবে নির্বাচনকালীন সরকার। ডিসেম্বর নির্বাচনের মাস। মাস খানেক পর রাজনীতির উত্তাপ পুরোই থাকবে নির্বাচন ঘিরে। নির্বাচন ঘিরেই নতুন নতুন বিভিন্ন জোটের কথা শোনা যাচ্ছে। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে নানা গুজব।

যুক্তফ্রন্ট নামে একটি মোর্চা ইতোমধ্যে গঠিত হয়েছে। এতে রয়েছে বিকল্পধারা বাংলাদেশ, নাগরিক ঐক্য, জেএসডি। এই দল গুলোর নেতাদের দৌড় সবারই জানা থাকার কথা। তাদের ট্র্যাক রেকর্ড একটু দেখে নিতে নিতে পারেন।

বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি হলেন প্রফেসর ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তাঁকে সবাই জানেন। বিএনপি থেকে বিতাড়িত। যদিও বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব ছিলেন তিনি। সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম আবদুর রহমান বিশ্বাসের ভাষায় তাঁকে রাজনীতিতে জিয়াউর রহমান আবিস্কার করেছিলেন টেলিভিশনের বাক্স থেকে। যদিও বিএনপিতে তখন শাহ আজিজুর রহমান, মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মত রাজনীতিকরা ছিলেন। পুরানোদের পাশাপাশি মানুষকে রাজনীতিতে নতুন মুখ উপহার দিতে চেয়েছিলেন জিয়াউর রহমান।

নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন। বিতাড়িত হয়ে হতাশায় হাবুডুবু খাচ্ছিলেন। কোথায়ও ঠাই না পেয়ে নিজেই নাগরিক ঐক্য নামে একটি সংগঠন তৈরি করেছেন। তাঁর দলের দ্বিতীয় কোন নেতার নাম তেমন আলোচনায় নেই।

জেএসডি নেতা আ স ম আবদুর রব। স্বাধীনতা পরবর্তী জাসদ প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। শেখ মুজিবুর রহমানের চরম বিরোধী ছিলেন তখন। যদিও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন। ৫ বছর শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। শুধু কি তাই! এরশাদের গৃহপালিত বিরোধী দলীয় নেতা হিসাবে তাঁর খ্যাতি রয়েছে। ১৯৮৮ সালে এরশাদ একটি নির্বাচন করেছিলেন। সেই নির্বাচনে বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ কোন বড় দল অংশ নেয়নি। আ স ম রব তখন ৭৩ দলীয় জোট গঠন করে বিরোধী দলের নেতা বনেছিলেন। এরশাদকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে সচেষ্ট ছিলেন তিনি। তখন তাঁকে বলা হত গৃহপালিত বিরোধী দলীয় নেতা। সেই জাসদ ভাংতে ভাংতে অনেক টুকরো হয়েছে। আ স ম রব সাহেব এখণ এক টুকরার মালিক।

এই ৩ নেতার দল একত্রিত হয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছেন। বেশ ভাল কথা। যুক্তফ্রন্ট শুনতে ভালই লাগে!

তেনাদের সাথে যোগ হচ্ছেন আওয়ামী লীগ থেকে বিতাড়িত কৃষক শ্রমিক জনতা পার্টির আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। এর সাথে আরো যুক্ত হচ্ছেন আওয়ামী লীগ থেকে আরেক বিতাড়িত ড. কামাল হোসেন। এতেই নাকি জাতীয় ঐক্য হয়ে যাবে!

এই জাতীয় ঐক্যে বিএনপি যোগ দিতে চাচ্ছে বলে প্রচার রয়েছে। তবে তারা নানা শর্ত দিয়েছে। সবকিছু মিমাংসার পরও যদি তাদের সাথে বিএনপি যোগ দিয়ে জাতীয় মহা ঐক্য হয়-এর নেতা হবে ড.কামাল ও বি চৌধুরী। বাতাসে উড়ছে ড.ইউনূসও জাতীয় ঐক্যের মূল নেতা হিসাবে আবির্ভুত হতে পারেন!

উপরে উল্লেখিত নেতাদের কারো নিজের এলকায় বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর।

জাতীয় ঐক্যের কথা শুনে ১৯৯০ সালে এরশাদ পতন এবং ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনে বিএনপি’র পতনের দিকে একটু চোখ বুলাচ্ছিলাম। কোন রকম পরিস্থিতিতে তারা বাধ্য হয়েছিলেন রাজপথের দাবী মেনে সরকার থেকে পদত্যাগ করতে!

নির্বাচনী জোয়ার শুরু হওয়ার মাত্র মাস খানেক আগে হঠাৎ কোন আন্দোলন করে কি সরকার পতন সম্ভব! যদি সম্ভব না হয় আওয়ামী লীগের অধীনেই ইলেকশন হবে। যদি আওয়ামী লীগের অধীনে ইলেকশন হয় বরিশাল, রাজশাহি, গাজিপুর, খুলনা, চট্রগ্রাম ও ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন একটু বিবেচনা করা কি বাঞ্চনীয় নয়?!

হ্যা, কেউ কেউ বলতে পারেন সিলেট ও কুমিল্লার উদাহরণ। এই দুই সিটিতে বিজয়ের ব্যবধানটা কিন্তু একেবারে মার্জিনে। আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে সেই মার্জিন ভোট অতিক্রম করা কি অসম্ভব হবে!?

নানা হিসাব মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। বুঝতে পারছি না কি ঘটবে আগামী কয়েক মাসে। হিসাব মিলছে না আমার।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!