প্রচলিত স্বাধীনতা ও  ইসলামী স্বাধীনতা:একটি পর্যালোচনা

মোঃ মোশারফ হোসেন

মানব জাতির জন্য আল্লাহর দেয়া সবচেয়ে বড় নেয়ামত হলো স্বাধীনতা। ইসলামের দৃষ্টিতেও স্বাধীন ও পরাধীন ব্যক্তির মর্যাদা সমান নয়। এমনকি ইবাদত পালনের ক্ষেত্রেও রয়েছে স্বাধীন ও পরাধীন ব্যক্তির হুকুম পালনের ব্যাপক তারতম্য। স্বাধীনতা এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা অর্জন করা ইসলামে বাধ্যতামূলক। এজন্য ইসলাম এসে পৃথিবীর পরাধীনতার শিকল ভেঙ্গে প্রত্যেককে যার যার পূর্ণ স্বাধিকার গ্রহণের উদাত্ত্ব আহবান জানায়। তাই এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় একমাত্র ইসলাম ধর্মই মানুষকে পরিপূর্ণ স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে।

স্বাধীনতা কী?  Oxford ও অন্যান্য Dictionary অনুসারে শাব্দিক অর্থে ‘স্বাধীনতা’ বাংলা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো- ‘liberty’, ‘Freedom’ ‘Independence’; The power or right to act, speak or think as one wants.1. Absence of subjection to foreign domination or despotic government. 2. The state of not being imprisoned or enslaved.

পারিভাষিক অর্থঃ রাষ্ট্র বিজ্ঞানী প্রফেসর ড.এমাজ উদ্দজ উদ্দীন বলেন, “অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে স্বীয় ইচ্ছামতো কাজ করার অধিকারই স্বাধীনতা”। বিশিষ্ট সমাজ বীজ্ঞানী Herbert Spenser এর  মতে- “স্বাধীনতা বলতে খুশিমতো কাজ করাকে বুঝায়,যদি সে কাজ দ্বারা অন্যের অনুরূপ স্বাধীনতা উপভোগে বাধার সৃষ্টি না হয়”। টি.এইচ.গ্রীন বলেন – “যা উপভোগ করার এবং সম্পন্ন করার যোগ্য তা উপভোগ ও সম্পাদন করার ক্ষমতাকে স্বাধীনতা বলে”।  উল্লেখিত সংজ্ঞাসহ স্বাধীনতার যত সংজ্ঞা আছে তা আর যাই হোক চিরন্তন নয়। কারণ সময়ের সাথে সাথে স্বাধীনতার সংজ্ঞায়ও পরিবর্তন,পরিবর্ধন,পরিমার্জন হওয়া যেন অনিবার্য।

ইসলামী স্বাধীনতাঃ ইসলামী স্বাধীনতা বলতে মহান আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত অন্য সকল সৃষ্টি ও কৃষ্টি এবং ব্যক্তি ও শক্তির প্রভাব মুক্ত হয়ে নিজের সকল ইচ্ছা আল্লাহর কাছে সোপর্দ করে ইচ্ছেমত কাজ করাকে বুঝায়। ইসলামে এমন স্বাধীনতার বিপরীত হলো দাসত্ব। আর দাসত্ব শুধু পরাধীনতাই নয় তা হলো এক রকম মৃত্যু; আর স্বাধীনতা হলো জীবনের ন্যায়। আল্লাহ তায়াল বলেন – “যে ব্যক্তি কোন মুমিনকে (স্বাধীন) ভুল করে হত্যা করে সে যেন একজন মুমিন দাসকে মুক্ত করে দেয়”। সুরা নিসা,আয়াত- ৯২। আয়াতে ভুলের মাশুল স্বরূপ কোন পরাধীন ব্যক্তিকে আল্লাহর ইচ্ছার অনন্ত সীমানায় ছেড়ে দিয়ে জীবন দান করাকে বিধান করেছে। যার অর্থ হলো দাসত্ব নামের (অর্থগত) মৃত্যু থেকে তাকে জীবন ফিরিয়ে দেয়া বুঝায়। একইভাবে কুফর তথা আল্লাহকে অস্বীকার করাকেও পরাধীনতা হিসেবে ঈঙ্গিত করে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ “ আর যে (কাফের) মৃত ছিল অতঃপর আমি তাকে জীবিত করেছি এবং তাকে এমন একটি আলো (ঈমান) দিয়েছি, যা নিয়ে সে মানুষের মাঝে চলাফেরা করে। সে কি ঐ ব্যক্তির সমতুল্য হতে পারে, যে অন্ধকারে রয়েছে-সেখান থেকে বের হতে পারছেনা? এমনিভাবে কাফিরদের দৃষ্টিতে তাদের কাজকর্মকে সুশোভিত করে দেয়া হয়েছে” সুরা আন আম,আয়াত-১২২। আয়াতে কুফরকে মৃত্যু এবং ঈমানকে জীবনের সাথে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ কেউ যদি আল্লাহকে অস্বীকার করে বা তাঁর সাথে শিরক করে তাহলে সে তার স্বাধীনতা হারিয়ে পরাধীনতার অন্ধকারের দাস হয়ে যায়। আর সেখান থেকে একমাত্র ঈমান নামের জীবন তাকে স্বাধীনতার আলোতে ফিরিয়ে আনতে পারে।

স্বাধীনতায় পার্থক্যঃ উপরে উল্লিখিত উভয় প্রকার সংজ্ঞা থেকে দুধরণের স্বাধীনতা সম্পর্কে জানা যায়; যার একটি স্বাধারণ অর্থে প্রচলিত স্বাধীনতা এবং অপরটি ইসলামী স্বাধীনতা। প্রচলিত স্বাধীনতা  হলো ‘Secular’ তথা পার্থিব এবং ইসলামী স্বাধীনতা হলো সার্বজনীন ও উভয় জগতের জন্য কল্যাণকর। প্রচলিত স্বাধীনতা নিছক অধিকার ভোগের সাথে সম্পৃক্ত কিন্তু ইসলামী স্বাধীনতা অধিকার ভোগের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের সাথে সম্পৃক্ত। প্রচলিত স্বাধীনতা ভোগ হলো আত্মকেন্দ্রিক ও তা কোন ইবাদত হিসেবে গণ্য না ও হতে পারে কিন্তু ইসলামী স্বাধীনতা সার্বজনীন ও ইবাদত হিসেবে গণ্য। প্রচলিত স্বাধীনতা কোন গোত্র,জাতি, রাষ্ট্র ও সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে আর ইসলামী স্বাধীনতা ব্যাপক,সীমাহীন এবং চিরন্তন। প্রচলিত স্বাধীনতা সংকীর্ণ হওয়ায় ইসলামী স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে কিন্তু ইসলামী স্বাধীনতা প্রচলিত স্বাধীনতার বাস্তবতা স্বীকার করে কিন্তু কারো অধিকার ভোগে বাধা সৃষ্টি করেনা। প্রচলিত স্বাধীনতা মুসলমানদের জন্য স্বাধীনতা খর্বকারী কিন্তু ইসলামী স্বাধীনতা অন্য সকলের জন্য সমান কল্যাণময়। ইসলামের স্বর্ণ যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বিদ্যমান। প্রচলিত স্বাধীনতা একটা নির্দিষ্ট ভূখন্ডের সাথে সম্পৃক্ত আর ইসলামী স্বাধীনতা নির্দিষ্ট ভূখন্ডেরও হতে পারে আবার পুরো পৃথিবী বা অন্যগ্রহেও মানুষ বা জ্বিনের বাস হলেও এর পরিধি সে পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রচলিত স্বাধীনতা শুধু মানব জাতির জন্য আর ইসলামী স্বাধীনতা মানুষ ও জ্বিন উভয় জাতির জন্য।

ইসলামে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছার গুরুত্বঃ ইসলামের দৃষ্টিতে স্বাধীনতার অর্থ ব্যাপক ও বিস্তৃত। ইসলাম প্রত্যেকের পছন্দ-অপছন্দকে যথার্থভাবে গুরুত্ব দেয় কিন্তু স্বেচ্ছাচারিতাকে নয়। আল্লাহ তায়ালা  বলেনঃ “দ্বীনের মধ্যে জবরদস্তি নেই; অবশ্যই সৎ পথ ভুল পথ থেকে পরিষ্কার হয়ে গেছে”, সুরা বাক্বারা,আয়াত- ২৫৬। ইসলাম অতীতেও কখনো কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে দ্বীন গ্রহণ চাপিয়ে দিয়েছে এমন নজির নেই। জাতি,ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে সবার স্বাধীনতার কথা পবিত্র কুরানে এসেছে- উপমা হিসেবে হযরত নূহ (আ) এর ঘটনা উল্লেখ করে আল্লাহ বলেনঃ “আমি কি উহা (ইসলাম) তোমাদের উপর তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাপিয়ে দিতে পারি?” সুরা হুদ,আয়াত- ২৮। এমনকি আল্লাহ নিজেও তাঁর ইচ্ছা কোন মানুষের উপর চাপিয়ে দেন না। এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ বলেনঃ “আর তোমার পরওয়ারদিগার যদি ইচ্ছা করতেন,তবে পৃথিবীর বুকে যারা আছে সবাই ঈমান আনত সমবেতভাবে”। তুমি(হে নবী) কি মানুষের উপর জবরদস্তি করবে ঈমান আনার জন্য?” সুরা ইউনুস আয়াত- ৯৯। ইসলামের প্রবেশদার “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বাণী দ্বারা বহু প্রভুর প্রভুত্ব বাতিল ও অস্বীকার করা হয়েছে যে বা যারা মানুষের স্বাধীনতা হরণ করে মানুষকে পরাধীন করে রাখে। অর্থাৎ মানুষের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপকারীদের অস্বীকার করে আল্লাহ যেমন সীমাহীন মানুষকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তথা চিন্তা ও কর্মে তেমনি সীমাহীনতার আহবান জানায়। কেননা মানুষের তথাকথিত স্বাধীনতা চিন্তা মানুষকে সীমাবদ্ধ ও সংকীর্ণ করে ফেলে; যা এক প্রকার পরাধীনতা ।

প্রচলিত স্বাধীনতা ও মুসলিম জাতিঃ প্রাচীন ও আধুনিক রাষ্ট্র বিজ্ঞানে বর্ণিত প্রচলিত হাজার বছরের এত উন্নততর ‘স্বাধীনতা’ সংজ্ঞা মুসলমানদের ইচ্ছার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। প্রাচ্য ও প্রাচ্যাত্যে আইনের শাসনের মডেল রাষ্ট্র গুলোও মুসলমানদের সে ইসলামী স্বাধীনতা ভোগ করতে দেয়নি কখনো। এমনকি আজকের অনেক মুসলিম রাষ্ট্রও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইসলামী স্বাধীনতা নিশ্চিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে অপ্রত্যাশিতভাবে। এমনকি চরম বাস্তবতা হলো প্রচলিত ও ইসলামী এ উভয় স্বধীনতার দূরত্ব যেন বেড়েই চলেছে। হোক তা সংজ্ঞায় অথবা বাস্তবায়নে। যার উদাহরণ পৃথিবীজুড়ে প্রতিটি রাষ্ট্রে বিদ্যমান।

আইন ও স্বাধীনতাঃ ‘আইন স্বাধীনতার রক্ষা কবচ’ এ শিক্ষা দিয়েছে ইসলাম। ইসলামই প্রথম এ ধারণা বাস্তবায়ন করে যে আইন বিহীন কোন স্বাধীনতা মানেই স্বেচ্ছাচারিতা। আর স্বেচ্ছাচারিতা মানেই অশান্তি। আর ইসলাম যদি নিছক কোন ধর্ম হত তাহলে আইনের এমন মজবুত ও চিরন্তন কাঠামোর বড়াই করতে পারত না। তাই সকল প্রকার স্বাধীনতার জন্য ইসলাম নিয়ে এসেছে হুদুদ তথা পারিবারিক,সামাজিক,রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ও শান্তিপ্রতিষ্ঠাসহ মানব জাতির জন্য যা প্রয়োজন তার সকল আইন।

স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তাঃ ইসলামেই কেবল স্বাধীনতা ছাড়া মানুষের মর্যাদা অপূর্ণাঙ্গরুপে মান নির্ধারণ করেছে। আল্লাহ ছাড়া অন্যের মত অনুযায়ী এমনকি নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণকেও তাগুতের আনুগত্য বা শয়তানের আনুগত্য বলে আখ্যায়িত করেছে। যা নিশ্চিত এক প্রকার দাসত্ব বা পরাধীনতা। স্বাধীনতা ছাড়া ইসলামের ইবাদত পালনেও পূর্ণতা আসেনা। এ প্রক্ষিতে রাসুল (স) বলেন, “যদি কোন দাস হজ্জ পালন করে তবে তাকে আবার হজ্জ করতে হবে” আহমদ,বায়হাকি,হাকিম। সাক্ষ্য গ্রহণে নির্ভরযোগ্যতা কমে যায়। এজন্য ইসলাম দাসপ্রথা বিলোপের বিধান করেছে এবং কোনভাবেই আজীবন পরাধীন থাকাকে সমর্থন করেনা। এমনকি ইসলামী সমাজ ও দেশ ছেড়ে রাষ্ট্রীয় ও দাওয়াতী কাজ ছাড়া কোন অনৈসলামিক সমাজ ও দেশে আজীবন থাকাকেও নিরুৎসাহিত করেছে ইসলাম। অর্থাৎ ইসলামী স্বাধীনতার আওতায় থাকা এবং পরাধীন থাকলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা এক রকম ওয়াজিব। কারণ ইসলামে আল্লাহ ছাড়া অন্যের অধীনতা স্বীকার করা হারাম। এজন্য মানুষ বেচা-কেনা করা হারাম করেছে এবং যারা এসব করে তাদের উপর অভিশাপ নেমে এসে থাকে। কারণ এর মাধ্যমে মানুষের স্বাধীনতা হরণ করা হয়।

জাতীয় স্বাধীনতাঃ ইসলামে স্বাধীনতা যেহেতু দায়িত্ব-কর্তব্য ও অধিকারের সাথে জড়িত তাই স্বাধীনতার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা শুধু ব্যক্তি জীবনেই নয় জাতীয় জীবনেও এর চাহিদা,গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আরো অনেক বেশি ও সীমাহীন। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মানুষকে স্বাধীন করে সৃষ্টি করেছেন কিন্তু মানুষ বা অন্য কোন শক্তি তাকে পরাধীন করেছে। তাই জে.জে. রুশো তাঁর সোসাল কন্ট্রাক বইয়ে বলেনঃ “MAN IS BORN FREE AND EVERYWHERE HE IS  CHINS.ONE MAN THIKS HIMSELF THE MASTER OF OTHERS,BUT REMAINS MORE OF A SLAVE THAN THEY ARE.” অতীতে যখনই কোন জাতি ইসলামে বর্ণিত স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলেছে তখনি আল্লাহ তায়ালা নবী-রাসুল প্রেরণ ও ধর্মগ্রন্থ নাযিল করেছেন সে জাতিকে গাইরুল্লাহ থেকে স্বাধীন করার জন্য। যেমন হযরত মুসা,ঈসা(আ)সহ অসংখ্য নবীকে বনী ইসরাইলের স্বাধীনতার জন্য এবং সর্বশেষ হযরত মুহাম্মদ (স)কে পুরো মানব জাতির স্বাধীনতার জন্য পাঠানো হয়েছ। ইসলাম কোন ব্যক্তি বা শক্তির কাছে কোন ব্যক্তি বা শক্তির পরাধীনতা সহ্য করেনা। বিদায় হজ্জের ভাষণে জাতির উপর জাতির প্রাধান্য রহিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আরব-অনারব বা গোত্রীয়-বংশীয় সকল জাতীয় ও বিশেষ সব ধরনের মর্যাদা বিলুপ্ত করে সকলকে সম মানের ও সম মাপের স্বাধীন বলে ঘোষণা করেছে। তাই কোন মুসলিম জাতি অন্য কোন মুসলিম জাতি বা অমুসলিম জাতির কাছে পরাধীন থাকতে পারেনা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাঃ আমাদের বাংলাদেশ প্রায় দুশ বছর ব্রিটিশরা তাগুতী আইন করে এ দেশের মানুষের স্বাধীনতা হরণ করেছিল। অতঃপর ১৯৪৭-১৯৭১ পর্যন্ত ইসলামীপ্রজাতন্ত্র পাকিস্তান সরকারও ইসলামী স্বাধীনতা পুরোপুরি ভোগ করতে দেয়নি। এমনকি ভূমি ও মুসলিম পারিবারিক আইন ছাড়া ইসলামী তেমন অধিকার এ দেশের মুসলমানদের দিতে পারেনি তৎকালীন পাক সরকার। ১৯৭১ সালে ৯ মাসের অগণিত শহীদ-গাজীর ত্যাগ ও জীবন মূল্যে একটি বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডের কাগজের স্বাধীনতা পেয়েছি বটে কিন্তু ইসলামের সে প্রকৃত স্বাধীনতা যা একই সাথে অধিকার ভোগ ও ইবাদতের তা প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে ভোগ করতে পারছেনা কোন মুসলিম। একসাগর রক্তের বিনিময়ে ব্রিটিশ ও পাকিস্তানী শক্তির পরাধীনতা থেকে ঘুরে ফিরে একই মানের যা অমুসলিম রাষ্ট্রে প্রচলিত সে সেকিউলার স্বাধীনতার ঘূর্ণিপাকে হাবুডুবু খাচ্ছে প্রায় ১৬ কোটি মুসলমান। যে স্বধীনতায় মুসলিম জাতি কতিপয় অনুমোদিত ইবাদত পালন ও সাধারণ নাগরিক অধিকার উপভোগ ব্যতীত আর সবকিছুই তাদের সাধ্যের বাইরে। খুলে ফেলা হয়েছে ইসলামী আইনের চাকা, অন্ধ ও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ইসলামী সমাজ ও জামাতের চোখ ও মুখ। স্বাধীনতার নামে নাস্তিক্য এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় ইবাদত এ দেশের সংবিধানে স্থান করে নিচ্ছে দিনে দিনে। এর কারণ সত্যিকার স্বাধীনতার সঠিক উপলব্ধির অনুপস্থিতি, জাতীয় আড়ষ্ঠতা, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হস্তক্ষেপ, তাগুতী আইনের মায়াজাল, বিপদগামী সংস্কৃতি চর্চা, অসাধু অর্থনীতির কড়াল থাবা, অপরাজনীতির দুষ্ট চক্রের আবর্তে পড়ে আজও আমাদের স্বাধীনতাকে খুঁজে ফিরি ব্যর্থ শিকারীর ন্যায়। সুকৌশলে মেকিয়াভ্যালীবাদ অনুসারে ইসলাম ও রাষ্ট্রকে আলাদা করন, প্রচলিত স্বধীনতার গায়েও স্বেচ্ছাচারিতার পোষাক পড়ানো হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থা ও সংবিধান থেকে ব্রিটিশ ও পাকিস্থান সময়ের চেয়েও ইসলামী শিক্ষাকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। আর এরই নাম দেয়া হয়ে আমাদের সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলমানদের স্বাধীনতা।

স্বাধীনতায় করনীয়ঃ একজন স্বধীন ব্যক্তির প্রথম ও প্রধান কাজ হলো মহান আল্লাহর ইবাদত করা। এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আমি মানবও জ্বিন জাতিকে শুধু মাত্র আমারই (আল্লাহ) ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি”। সুরা যারিয়াত,আয়াত ৫৬। আর যারা ক্ষমতাসীন হবেন তাদের দায়িত্ব বর্ণনা করে আল্লাহ বলেনঃ “আর আমি (আল্লাহ) যদি  তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা দান করি তবে তারা সালাত ক্বায়েম করে,যাকাত দেয়,ন্যায় কাজের আদেশ করা এবং অন্যায় কাজের নিষেধ করে”। সুরা হজ্জ,আয়াত-৪১। এর ব্যতিক্রম কিছু করা মানেই ইসলামী স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলা। আর জাতীয় স্বাধীনতা অর্জনে যার যতটুকু অবদান থাকে সে অবদানের স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেয়া। স্বাধীনতা অর্জনে যারা শহীদ হয়ে গেছে তাদের জন্য দোয়া করা। এক্ষেত্রে যদি কেউ অন্য ধর্মেরও হয় তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, বীরত্ব বর্ণনা বা প্রশংসা করা উচিত। কেননা রাসুল (স) বলেনঃ “যে ব্যক্তি মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনা সে আল্লাহরও কৃতজ্ঞ নয়”। তিরমিযি,আহমদ। পরিশেষে বলব মন-মগজের দুষ্ট জ্বিন ও সময়ের ফেরাউন এর কবল থেকে প্রতিটি মানুষ মুক্তি পাক; আলাহর দেয়া স্বাধীনতা নামক মহা নেয়ামত উপভোগ করে পরিতৃপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর কৃতজ্ঞ হওয়ার তাওফিক আল্লাহ প্রতিটি নাগরিক সমানভাবে দান করুন। আমিন।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!