ড. কারাযাভীর বই “ দারিদ্র বিমোচনে ইসলাম”- ও কিছু কথা

 শাহ আবদুল হান্নান

 ড. ইউসুফ কারাযাভী বর্তমান দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম ফকীহদের অন্যতম। আমি ইতিমধ্যেই তাঁর “আল্‌ মাসালাতুল ফাক্‌র ওয়া ইয়ায্‌ হালা হাল ইসলাম” “ দারিদ্র বিমোচনে ইসলাম”বইটি পড়েছি। এটি একটি বড় বই। আমি তার সার সংক্ষেপ নীচে পেশ করছি। কারণ দারিদ্র সমস্যা সবার। পূঁজীবাদ, সমাজতন্ত্র কেউ এর সমাধান দিতে পারেনি। ইসলামের ইতিহাস থেকে দেখা যায়, ১ম শতকেই ইসলাম এর সমাধান দিয়েছে। তাই এই  সমস্যার ইসলাম কিভাবে করেছে তা’ সবার জানা প্রয়োজন।

 এই বইয়ে উস্তাদ ইউসুফ কারাযাভী দারিদ্র সম্পর্কে বিভিন্ন মতবাদের বিবরণ দিয়েছেন। কোন কোন ধর্ম বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর মতে দারিদ্র একটি আশীর্বাদ। ড. ইউসুফ এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন। জাবারিয়া চিন্তাবিদ্গণ মনে করেন, দারিদ্র বা স্বচ্চছলতা আল্লাহর দান, তাই এর প্রতিরোধ করা যায়না। তিনি এই ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, আল্লাহ আমাদেরকে ব্যবসা বা কাজ করার জন্য বলেছেন এবং নিজের অবস্থার উন্নয়ন করতে বলেছেন।

 পূঁজীবাদীরা মনে করে দারিদ্র হলো ব্যক্তির দোষের কারণে সৃষ্ট।  উস্তাদ কারাযাভী এই মতও অস্বীকার করেন এবং বলেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই দারিদ্রের জন্ম দেয়। সমাজতন্ত্রীদের মতবাদ বিপ্লবের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনের ধারণাও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

অতঃপর তিনি দারিদ্রের ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গী তুলে ধরেছেন। ইসলাম এই ধারনা অনুমোদন করেনা যে, দারিদ্র একটি আশীর্বাদ। তিনি বলেন, ইসলাম মনে করে দারিদ্র ইমানকে দুর্বল করে দেয়, নৈতিক আচরণ, পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে বিধ্বস্ত করে।

 এর পর তিনি ইসলামের কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন যার মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন করা হয়।

 এর প্রথম পদক্ষেপ হলো কাজ করা, কর্ম খুজে নেওয়া, নিজের মাঠে কাজ করা ও আত্নকর্মসংস্থান করা। রাষ্ট্র তার উন্নয়ন কর্মকান্ড বৃদ্ধির মাধমে এ ব্যাপারে সুযোগ বৃদ্ধি করতে পারে। 

ইসলামে দ্বিতীয় যে সুযোগটি করা হয়েছে তা হলো নিকটাত্বীয়রা তাদের প্রতিবদ্ধী, বা অস্থায়ীভাবে বেকার হয়ে পড়া আত্নীয়দেরকে দেখাশোনা করবে।

 তৃতীয় পর্যায়ের পদক্ষেপ হচ্ছে রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক পর্যায়ে জাকাত ব্যবস্থাপনা করা হবে। জাকাতের মাধ্যমে জনগণকে আত্নকর্মসংস্থানের উপযূক্ত করে তোলা হবে। জাকাত প্রদানের সর্বোত্তম পন্থা হলো কাউকে এমনভাবে সক্ষম করে তোলা যেন সে আর কখনো জাকাতের জন্য আবেদন জানাতে না আসে। পৃথিবীর সর্বপ্রথম সামাজিক ইন্স্যুরেন্স স্কীম হচ্ছে জাকাত।

 চতুর্থ কৌশল হলো রাষ্ট্র তার রাজস্ব আয় থেকে বাদ বাকী দারিদ্রকে বিমোচনের জন্য যা অর্থায়ণ প্রয়োজন তা’ করবে।

 পঞ্চমতঃ স্বেচ্ছা প্রণোদিত সাদাকাহ ও ওয়াকফ-এর আয় থেকে এই কাজে ব্যবহার করা হবে।

 ড. কারাযাভী এর পর ইসলামের প্রাথমিক ইতিহাসে ইসলামী অর্থনৈতিক ব্যবস্থাদির ফলে কিভাবে দারিদ্রের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জিত হয়েছিল তার বর্ণনা দেন।

ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা ওমরের আমলে ইয়েমেন থেকে দারিদ্র পুরোপুরি নির্মূল হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে ইয়েমেনের গভর্ণর অতিরিক্ত জাকাত মদীনায় ফেরত পাঠিয়েছিলেন

 উমাইয়া খলীফা ওমর ইবনে আবদুল আযিযের আমলে আফ্রিকার মুসলিম এলাকায় এবং কার্যতঃ পুরো মুসলিম দুনিয়া থেকে দারিদ্র নির্বাসিত হয়ে গিয়েছিল। ঐ সময় এমন কাউকে পাওয়া যায়নি যে জাকাতের বা দানের প্রত্যাশী ছিল।

 সংক্ষেপণেঃ শাহ আবদুল হান্নান।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!