টাকার বিনিময়ে আ. লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় নায়ক-নায়িকারা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতা-নেত্রীদের মতো ভোটের মাঠে অভিনয় করে ব্যস্ততা পার করছেন দেশের ছোট ও বড় পর্দার অভিনেতারাও। টাকার বিনিময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রচার প্রচারণার  জন্য ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন তারা। তারই ধারাবাহিকতায় এবার নির্বাচনি প্রচারণায় ভোট চাইতে ভোলায় উড়ে গেলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের ৬ জন।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে টাকার বিনিময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রচার প্রচারণার জন্য সিনেমা ও নাটকের বেশ কয়েকজন অভিনেতা-অভিনেত্রী অংশ নিয়েছে। কোটি টাকার বিনিময়ে নৌকায় ভোট চাইতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে। যা নির্বাচনী আচরণ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

গত ১৩ই নভেম্বর (মঙ্গলবার) আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচনী প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহনের পর থেকে চলছে এই প্রচারণা।

চলতি মাসের শুরু থেকে টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে নৌকা মার্কায় ভোট চাইতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছুটছেন চলচ্চিত্রের এই তারকারা।

জানা যায়, চড়া মূল্যে দিয়ে এসব নায়ক নায়িকাদেরকে নির্বাচনী প্রচারণায় নামাচ্ছে আওয়ামী লীগ। কেউ ক্ষমতায় লোভে আবার অনেকেই বাধ্য হয়ে ছুটে চলছে আওয়ামী লীগের এই নির্বাচনী প্রচারণায়।

আজ (বুধবার) নৌকা প্রতীকে ভোট চাওয়ার জন্য দ্বীপজেলা ভোলায় উড়ে গেছেন ছয় চিত্রতারকা। তারা হলেন রিয়াজ, ফেরদৌস, পূর্ণিমা, পপি, অপু বিশ্বাস এবং ইমন।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এখবর প্রকাশের পর নেতিবাচক মন্তব্যের ছড়াছড়ি দেখা যায়। এতে ক্ষমতাসীনদের ভাবমূর্তি তারা যতখানি তুলে ধরছেন তার চেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্তই হচ্ছে।

আমির হোসেন নামে একজন লিখেছেন, যে জিনিস বেশি খারাপ তাদেরি প্রচার করতে বেশি কিছুর প্রয়োজন হয়। ভাল জিনিস মানুষের চোখে এমনিতেই লাগে তাদের প্রচার লাগে না।

আধিকা প্রদিপ লিখেছে, বেকারদের ভালোই কয়েক দিনের জন্য হলে ও কর্মসংস্থান হলো, আর এদিক থেকে ইন্ডিয়ান সিরিয়াল আরো দেশকে গ্রাস করে খেয়ে ফেলবে। অভিনয় জগতের যে অবস্থা।

টাকার বিনিময়ে নৌকার ভোট চাইতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অভিনেতারা

জে ইসলাম রুবেল লিখেছে, ভাড়ায় চালিত আটো রিক্সা আর এদের মধ্যে পার্থক্য হল রিক্সার চাকা তিনটা আর এদের হল দুইটা! ভাড়াটে অটো ওয়ালাকে যাত্রী যখন যেখানে যেতে বলে তখন সে সেখানেই যেতে বাধ্য তাই এরাও যাত্রীর হুকুম তামিলে সারাদেশে ট্রিপ দিচ্ছে।

তানভীর রুবেল লিখেছেন, আওয়ামীলীগের নিজস্ব জনপ্রিয়তা নাই তাই এখন সেলিব্রেটিদের দিয়ে মানুষ জামাচ্ছেন ঠিকই কিন্তু ভোট দিবে বা কে?

মোহাম্মআদ এমদাদ লিখেছেন, এসব তারকাদেরকে আগে সবাই সেলিব্রিটি মনে করত। কিন্তু এরাব্যক্তিত্বকে বিসর্জন দিয়ে একটি নিরদিষ্ট দলের সাথে প্রচারে নেমেছে। এরা ওই দলের সমরথকদের কাছেই সেলিব্রিটি গণ্য হলেও বাকিরা এদের ভাড়াটিয়াই বলবে।

জসিম উদ্দিন লিখেছে, কিছু করার নেই, চলচ্চিত্রের বাজার তো এখন মন্দা! কয়জন এখন হলে গিয়ে ফ্লিম দেখে? তাদেরও তো কিছু একটা করে রোজগারের পথ সচল রাখতে হবে। আমরা কি করে ভুলে যায় ওদের পেশা হচ্ছে অভিনয় করা! সুতরাং তাদের এ প্রচারনা নিয়ে মাথা ব্যাথার কি দরকার? এটাও ওদের অভিনয়।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!