“চাঁ’দাবাজি হালাল করার জন্য আমার নামে মিলাদের দরকার নেই”:যুবলীগর মিলাদ প্রসঙ্গে হাসিনা”

*আগামী জাতীয় স’ম্মেলনের আগে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোয় একটা গুণগত পরি’বর্তন আনতে যাচ্ছেন দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে দলের নেতাকর্মীদের কাছে এ সংক্রান্ত একটি বার্তাও পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।

*আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, নেতাকর্মীদের কাছে আরও দা’য়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করছেন তিনি। রাজনীতির নামে কোনো রকম বিশৃঙ্খ’লা, চাঁ’দাবাজি, পে’শিশক্তি প্রয়োগ ইত্যাদির বি’রুদ্ধে জি’রো টলা’রেন্স নীতি নিয়েছেন শেখ হাসিনা। ভাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের পর এবার সহযোগী সংগঠন যুবলীগের প্রতিও ক’ঠোর হু’শিয়ারি দিয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতা আলাপকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

*দলটির এসব নেতা বলছেন, টানা তিন মেয়াদের সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা এখন দল নিয়ে খুবই সিরিয়াস। তিনি চান না, তার নেতৃত্বাধীন সরকারের অর্জন দলীয় কিছু নেতাকর্মীর আচরণের কারণে ম্লা’ন হয়ে যাক। সে কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের বি’রুদ্ধে অভি’যোগ পাওয়ামাত্রই ব্যব’স্থা নিচ্ছেন। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের বিরু’দ্ধে তার নেওয়া সি’দ্ধান্ত।

*আওয়ামী লীগের নেতারা আরও বলেন, গত শনিবারের বৈঠকে শুধু ছাত্রলীগ নয়, যুবলীগের বিষয়েও একাধিক অভি’যোগ উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সেদিন ছাত্রলীগ নিয়ে আলোচনার ভিড়ে হা’রিয়ে যায় যুবলীগ প্রসঙ্গ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজিপি ও স্বরাষ্ট্র সচিবের বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরেকটি ফাইল খোলেন দলের শীর্ষ নেতাদের সামনে। আওয়ামী লীগ সভাপতি এ সময় যুবলীগের নামে আসা অভি’যোগের কিছু কিছু পড়ে শোনান তার সহকর্মীদের। ঢাকা শহরের সেগুনবাগিচা এলাকায় মহানগর যুবলীগের নেতারা জু’য়া খেলার ক্যা’সিনো চালান বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ওইসব ক্যা’সিনো পরিচালনার জন্য নেপাল ও থাইল্যান্ড থেকে প্রশিক্ষিত নারী কর্মীদের নিয়ে আসা হয় বলেও তার কাছে খবর আছে। মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকের পরের শনিবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকেও যুবলীগের বিষয়ে ক’ড়া বার্তা দেন শেখ হাসিনা।

*সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন উপলক্ষে একটি এজেন্ডা ছিল আওয়ামী লীগের বৈঠকে। যদিও গ’ণভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের শুরুতে এ নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী নন বলে হাসতে হাসতে জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। এর পর বৈঠকের এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শেখ হাসিনার জন্মদিনের প্রসঙ্গ তোলেন। তখন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘নেত্রী, যুবলীগ মহানগর দক্ষিণ মাসব্যাপী আপনার জন্মদিন পালন করছে।’

*এ সময় ওবায়দুল কাদেরও আলোচনায় যোগ দিয়ে বলেন, ‘আজকেও সোহরাওয়ার্দীতে তারা বিশাল মিলাদ মাহফিল করেছে। প্রধানমন্ত্রী তখন তাদের দুজনকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, চাঁ’দাবাজির টাকা হালা’ল করার জন্য আমার নামে মিলাদের কোনো দরকার নেই। আমার বাবার মৃ’তদেহ ধানমন্ডির বাড়িতে পড়ে ছিল, আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী দেখতেও যায়নি। আমি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চিনি। দেশের মানুষের দোয়া আছে আমার সঙ্গে। কোনো মিলাদ আমার দরকার নেই।

*বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘যুবলীগ মহানগর দক্ষিণের একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে গোলা’গুলি করতে গিয়ে বেঁ’চে গেছে। এখন নাকি আরেকজন তিন গাড়ি ভর্তি অ’স্ত্র নিয়ে চলাফেরা করে।’ তিনি এ সময় পাশে বসা এক প্রেসিডিয়াম সদস্য, যিনি যুবলীগের নিয়’ন্ত্রক বলে পরিচিত, তার দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘এসব ক্যা’ডার বা’হিনী পোষা ব’ন্ধ করুন। কোনো অ’স্ত্রধারী ক্যা’ডার আমার দরকার নেই। আওয়ামী লীগ বি’পদে পড়লে সবার আগে এরাই অ’স্ত্র নিয়ে পা’লাবে। দলের কোনো বি’পদে এদের পাওয়া যাবে না।’

*উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো অ’স্ত্রবাজ দরকার নেই আমার। আপনারা যারা এগুলো লালন-পালন করেন, এসব ব’ন্ধ করতে হবে। নইলে আমি যেভাবে জঙ্গি’বাদ-স’ন্ত্রাস দ’মন করেছি, সেভাবে এগুলোও দ’মন করব।
শনিবারের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ গতকাল রবিবার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনে মনে হয়েছে, তিনি কোনো অপ’রাধীকে দলে চান না। এ জন্য তিনি একটা ক’ড়া বার্তা দিয়েছেন আমাদের সব নেতাকর্মীর উদ্দেশে। এবারের সম্মে’লনের আগেই দলে একটা গুণগত পরিবর্তন চান আমাদের সভাপতি।

*আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতারা আরও জানিয়েছেন, আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলা কমিটির সম্মেলন দেখতে চান শেখ হাসিনা। এ লক্ষ্যে তিনি দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের প্রয়োজনীয় নি’র্দেশ দেন শনিবারের বৈঠকে।

*দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর এ নি’র্দেশের পর গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীতে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্যের ব্যবসায়িক অফিসে আওয়ামী লীগের নেতাদের উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধা’ন্ত নেওয়া হয়, আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে দলের সব মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলার স’ম্মেলন করতে হবে। ওই বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের জাতীয় স’ম্মেলনের আগে কমপক্ষে ২০টি জেলা কমিটি ও বেশ কয়েকটি উপজেলা কমিটির সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সভা ডাকা হয়েছে। ওই সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আ’লোচনা করে সারাদেশে সাংগঠনিক সফরে নেমে পড়বেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

*সম্মে’লনের মধ্য দিয়ে দল গোছানোর পাশাপাশি উপজেলা নির্বাচনে যারা দলীয় সিদ্ধা’ন্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের বিষয়েও সি’দ্ধান্ত হয়েছে আওয়ামী লীগের বৈঠকে। যাদের নামে চিঠি গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের চিঠির জবাব দিতে হবে। চিঠির জবাব পাওয়ার পর প্রতিটি উপজেলার বিষয়গুলো বিস্তারিত বিশ্লেষণের পর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা চিঠির জবাব দেবেন না, তাদের সরাসরি দলীয় প’দ থেকে অ’ব্যাহতি দেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!