‘ইতিহাস কখনও মিথ্যুক ও ধোঁকাবাজের জন্য নয়; আলো জ্বলবেই’ ডক্টর তুহিন মালিক

image

বর্তমান জেনারেশনের চোখে প্রচলিত রাজনীতি অনেক আগেই সবটুকু শ্রদ্ধা ও সম্মান হারিয়েছে। নব প্রজন্মের কাছে অনুসরণ করার মত কোন একজন রাজনৈতিক আইকন আজকের সময়ে খুঁজে পাওয়া দুস্কর।

আজ যখন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ গ্রেফতারের পূর্বক্ষনে আকুতি করে বলছিল ‘আমাকে বাঁচান’। তখন ষোল কোটি মানুষের কানে এই আকুতি পৌছালেও। কংক্রিটের শক্ত গাঁথুনির মত কেউ-ই বিন্দুমাত্র নড়তে পারলো না!

যে ছাত্রদের আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের বাংলাদেশ। যাদের রক্তের সুবিধাভোগী আজকের শাসক। আজকের রাজনৈতিক দল। আজকের স্যুট বুট পড়া সুশীল সমাজ। বিত্তভোগী। সুবিধাভোগী।আমলা। শিক্ষক। সাংবাদিক। অথচ আজকে রাশেদ-নুরুদের বাঁচার আর্তনাদ তাদেরকে যেন আর কোনভাবেই ব্যাথিত করে না!

রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান। আজ একেকটা সুবিধাবাদী। আস্থার জায়গা ছিল বিচার বিভাগ। মিডিয়া। সর্বশেষ সেনাবাহিনী। সবাই আজ নির্লিপ্ত। আত্মস্বার্থে নিরব।নিঃশ্চুপ। আজ আলেমদের পোষাক পড়া যে লোকটিকে শুধুমাত্র তার ধর্মীয় লেবাসের কারনে প্রকাশ্য রাজপথে মারধর করা হলো। কই, কোনো ওলামা বা ইসলামী দলতো এর কোনো প্রতিবাদ করলো না। সবাই যেন আজ শুধুমাত্র নিজেকে নিয়েই ব্যতিব্যস্ত।

অথচ নিজেরটা শুধু দেখেনা ছাত্ররা। দেখেওনি কখনও। ছাত্ররা নিজেরটা দেখলে ঊনসত্তর আসতো না। একাত্তরের জন্ম হতো না। নব্বই আসতো না। সর্বপঁচনের এই মহামারীতে একমাত্র ছাত্ররাই শেষ আলোকবর্তিকা।

হতাশার কিছু নেই। আলো জ্বলবেই। সেই আলোক রশ্মিতে উম্মোচিত হবে প্রতিটি মুখোশের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা এক একটা হানাদারের অবয়ব। টিক্কা খান-ইয়াহিয়াদের প্রেতাত্মার আসল রুপ। দেখা মিলবে অসংখ্য নব্য হানাদারের দোসরের সংখ্যা। বেড়িয়ে আসবে শত শত হানাদারের সহযোগী নব্য রাজাকাররা।

রাশেদ-নুরুদের আত্মত্যাগ কখনও বৃথা যাবে না। আত্মত্যাগ কখনও বৃথা যায়নি। ইতিহাস সাক্ষী। আর ইতিহাস কখনও মিথ্যুক ও ধোঁকাবাজের জন্য নয়। অপেক্ষাটা শুধুমাত্র অল্প কিছুদিনের।

লেখক: সুপ্রিমকোর্টের আইনজ্ঞ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!