আবার ভাই জিএম কাদেরকে পার্টির উত্তরসূরি ঘোষণা

মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় আবারো নিজের সিদ্ধান্ত পাল্টালেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিরোধী দলের নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। নিজের ছোট ভাই জিএম কাদেরের দলের সকল পদ-পদবী কেড়ে নিলেও তা মাত্র ১৬ দিনের মাথায় আবার ফিরিয়ে দিলেন এরশাদ। অর্থাৎ দলে ভাই জি এম কাদেরের যেসব পদ কেড়ে নিয়েছিলেন- তার প্রায় সবই ফেরত দিলেন এরশাদ। তবে দলীয় পদ-পদবী ফিরিয়ে দিলেও একাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের উপ-নেতার পদ এখনো ফিরিয়ে দেয়া হয়নি।

আবার ভাই জিএম কাদেরকে পার্টির উত্তরসূরি ঘোষণা – সংগৃহীত

মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় আবারো নিজের সিদ্ধান্ত পাল্টালেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিরোধী দলের নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। নিজের ছোট ভাই জিএম কাদেরের দলের সকল পদ-পদবী কেড়ে নিলেও তা মাত্র ১৬ দিনের মাথায় আবার ফিরিয়ে দিলেন এরশাদ। অর্থাৎ দলে ভাই জি এম কাদেরের যেসব পদ কেড়ে নিয়েছিলেন- তার প্রায় সবই ফেরত দিলেন এরশাদ। তবে দলীয় পদ-পদবী ফিরিয়ে দিলেও একাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের উপ-নেতার পদ এখনো ফিরিয়ে দেয়া হয়নি।

ঘন ঘন মত পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত এরশাদ তার অবর্তমানে ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিদেশে অবস্থানকালে কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে এক সাংগঠনিক নির্দেশনায় জানিয়েছেন। দলের গঠনতন্ত্রের ২০/১-ক ধারা মোতাবেক এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে শনিবার এরশাদ স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে।

এদিকে দুদিন আগেই জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যানের পদে ফেরত আনা হয় জিএম কাদেরকে আর গতকাল শনিবার নিজের অবর্তমানে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের জন্যও তাতে মনোনীন করেন এরশাদ। গতকাল এরশাদ এক ‘সাংগঠনিক নির্দেশে’ জিএম কাদেরকে তার উত্তরসূরি ঘোষণা করেন। এরশাদ তার ওই সাংগঠনিক নির্দেশনায় বলেন, গত ২২ মার্চ যে সাংগঠনিক নির্দেশ জারি করেছিলাম তা বাতিল করা হলো।

গত ১৬ জানুয়ারি যে সাংগঠনিক নির্দেশ জারি করেছিলাম সেই অনুযায়ী আমার অবর্তমানে ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিদেশে অবস্থানকালে পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি বলেন, গত ২২ মার্চ তারিখে আমার স্বাক্ষরিত একটি সাংগঠিক নির্দেশ জারি করেছিলাম, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল। উক্ত সাংগঠনিক নির্দেশ অত্র সাংগঠনিক নির্দেশ দ্বারা বাতিল ঘোষণা করছি। আমি আবারো জাতীয় পার্টির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, আমার অবর্তমানে বা চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিদেশে থাকাকালীন সময়ে পার্টির বর্তমান কো চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অত্র সাংগঠনিক নির্দেশ দ্বারা পুনর্বহাল করলাম।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এরশাদ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি ভাই জি এম কাদেরকে দলের ‘ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান ‘হিসেবে ঘোষণা দেন।

প্রসঙ্গত. এর আগে ২২ মার্চ পার্টির কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে জিএম কাদেরকে সরিয়ে দিয়েছিলেন এরশাদ। পরদিন সংসদের বিরোধী দলের উপনেতা পদ থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এর মাত্র ১২ দিন পর গত ৪  এপ্রিল বৃহস্পতিবার জিএম কাদেরকে আবারও পার্টির কো-চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করা হয়। আর এখন এরশাদের অবর্তমানে জাপা চেয়ারম্যান হলেন জিএম কাদের।

এদিকে জিএম কাদেরের এই পদ পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছেন দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। তার নেতৃত্বে রংপুরের নেতারা সিদ্ধান্ত নেয়, জি এম কাদেরকে পুনর্বহাল না করলে তারা একযোগে পদত্যাগ করবেন। মোস্তফা জানিয়েছেন, গত ৩ এপ্রিল তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এরশাদ জি এম কাদেরকে আবারও স্বপদে বহালের সিদ্ধান্ত নেন।

পার্টির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, দলের সভাপতিমন্ডলীর একাধিক সদস্য জি এম কাদেরকে হটাতে চেষ্টা করেছিলেন। ১ জানুয়ারি দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তে ‘নাখোশ’ ছিলেন দলের অনেক সিনিয়র নেতা। দলের এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় দলের সিনিয়র কো চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের সঙ্গে ‘দ্বন্ধের’ কথা নিজেই স্বীকার করে নিয়েছিলেন জি এম কাদের।

পরে গত ২২ মার্চ সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যর্থতা ও দলে বিভেদ তৈরির অভিযোগে জি এম কাদেরকে দলের কো চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেন এরশাদ। তাকে সাংগঠনিক সব কার্যক্রম থেকেও বিরত করেন তিনি। কেড়ে নেওয়া হয় দলের উপনেতার পদও। তবে বহাল থাকে সভাপতিমন্ডলীর পদ। ভাইকে সরিয়ে স্ত্রী রওশন এরশাদকে জাতীয় সংসদে দলের উপনেতা করেন এরশাদ।

এরশাদের এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন রংপুর বিভাগের নেতারা। দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার নেতৃত্বে তারা সিদ্ধান্ত নেয়, জি এম কাদেরকে পুনর্বহাল না করলে তারা একযোগে পদত্যাগ করবেন।

অপরদিকে পুরনো ‘দ্বন্ধ’ নিরসনের আভাস দিয়েছেন রওশন এরশাদও। কদিন আগে দলের যুব সংগঠন জাতীয় যুব সংহতির এক অনুষ্ঠানে রওশন এরশাদ ও জি এম কাদেরকে দেখা গেছে একমঞ্চে। দলকে ক্ষমতায় নিতে একযোগে কাজ করার ঘোষণা দিয়ে রওশন এরশাদ বলেছেন, তাদের দলে ‘কোনো দ্বন্ধ বা বিভেদ নেই’।

এরশাদের এই সিদ্ধান্ত বদলের বিষয়ে মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, পার্টির চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত তবে ভবিষ্যতে এরশাদের অবর্তমানে পার্টির চেয়ারম্যান কে হবেন-তা দলের নেতাকর্মীরাই সিদ্ধান্ত নেবেন। ##

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!