আবদুল মান্নান তালিব: একটি জীবন একটি ইতিহাস

তৌহিদুর রহমান
আবদুল মান্নান তালিব বিরল প্রতিভাধর একজন মানুষ। সারা দুনিয়াতে আবদুল মান্নান তালিব একজনই ছিলেন। তাঁর তুলনা তিনি নিজেই। এমন বহুমুখী গুণের সমাবেশ সচরাচর পরিলতি হয় না। তিনি একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। একই সাথে কুরআন, হাদিস, ফেকাহ, আইন, ইতিহাস, আন্তধর্ম, সাহিত্য, ইসলামী সাহিত্য, কবিতা, ছন্দ ইত্যাদি বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখেন এমন ব্যক্তিত্ব দুনিয়াতে খুব কমই আছেন। তিনি নামের দিক থেকে যেমন একক ও অনন্য, কাজের দিক থেকেও তেমনি অনন্য। আলোচনা কালে অনেক বার বলেছেন, ‘আমার নাম নিয়ে আমাকে অনেক বার বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। অনেকেই আমার নাম বিকৃতভাবে লেখেন। তালিব শব্দটা অনেকেই লেখেন না আবার কেউ কেউ লিখলেও ভিন্নভাবে লেখেন। আমি বলি কি আবদুল মান্নান দুনিয়াতে হাজার হাজার আছেন কিন্তু আবদুল মান্নান তালিব দুনিয়াতে একজনই।’ ভুল স্পেলিং-এ নাম লেখা চিঠি-পত্র আসলে তিনি হাসতে হাসতে এভাবেই কথাগুলো বলতেন।তিনি ছিলেন কুরআন-হাদিসে সুবিজ্ঞ এবং সাহিত্য সাধনায় পথিকৃত। একাধারে তিনি আল-কুরআন ও হাদিস অনুবাদের পাশাপাশি ইসলামী নানা বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি শিশুদের মানস গঠন যেভাবে ইসলামী ভাবধারার সাহিত্য রচনা করেছেন তা সত্যিই অতুলনীয়। ইসলামী ভাবধারার সাহিত্য কেমন হবে তার দিকনির্দেশনামূলক বহু মূল্যবান গ্রন্থও রচনা করেছেন। বিভিন্ন সাহিত্য ও গবেষণামূলক পত্র-পত্রিকাও তিনি সার্থকভাবে সম্পাদনা করেছেন। তিনি লাহোরে থাকাকালীন একটি উর্দু পত্রিকার সহ-সম্পাদক ছিলেন। পত্রিকা সম্পাদনার পাশাপাশি সমকালীন বিষয় ও যুগ জিজ্ঞাসামূলক বহু নিবন্ধ ও প্রবন্ধ লিখেছেন। তার বিষয়ে পরিপূর্ণ গবেষণামূলক প্রবন্ধ লেখা এখন সময়ের দাবি। এখানে শুধু তার জীবনের সংপ্তি কিছু পরিচয় পাঠকের জ্ঞাতার্থে তুলে ধরা হলো।তিনি ছিলেন কুরআন গবেষক। আল কুরআনের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে তিনি গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ লিখেছেন। লিখেছেন, শিশুতোষ অনেক রচনা। তিনি দীর্ঘদিন ‘আল কুরআনে সাহিত্য’ এ বিষয়ে গবেষণা করেছেন। বাংলা সাহিত্য পরিষদে এ বিষয়ে তিনি অনেক দিন কাস পরিচালনা করেছেন। এর ওপর তিনি একটা খসড়া পাণ্ডুলিপিও রেডি করেছেন। পবিত্র কুআনের অধিকাংশ আয়াত তার মুখস্থ ছিল। তিনি যুক্তি প্রমাণে কুরআন হাদিসের উদ্ধৃতি ছাড়া কথা বলতেন না। বিশ্বখ্যাত তাফসির গ্রন্থ ‘তাফহীমূল কুরআন’ তিনি অত্যন্ত সহজ সরল ভাষায় বাংলায় অনুবাদ করেছেন। উল্লেখ্য কয়েক হাজার পৃষ্ঠার বিশাল ভলিউমের ঊনিশ খণ্ডের এই তাফসিরের চৌদ্দ খণ্ড  তিনি অনুবাদ করেছেন। যা বাংলা ভাষাভাষি পাঠকের নিকট খুবই সমাদৃত হয়েছে। এছাড়া মহাগ্রন্থ আল কুরআন কাব্যিক ভাষায় অনুবাদ করে এক সময় তিনি পাঠক মহলে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। ধারাবাহিকভাবে পৃথিবী পত্রিকায় যখন এটা ছাপা হয়েছে তখন পৃথিবী পত্রিকার সার্কুলেশন অর্ধলাখে পৌঁছেছিল। এই অনুবাদের প্রশংসা করে তখন অসংখ্য চিঠি পত্র আসতে দেখেছি।তিনি ছিলেন হাদিস বিশারদ। লাহোরের জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসা থেকে দওরা-ই-হাদিসে উচ্চতর ডিগ্রিধারী একজন সুপণ্ডিত ছিলেন। অধিকাংশ হাদিস তার মুখস্থ ছিল। তিনি সহীহ বুখারী, রিয়াদুস সালেহীন অনুবাদ করেছেন। এছাড়া সীরাতে সরওয়ারে আলম, পয়গামে মোহাম্মদী, খতমে নবুওয়াত, রসূলের যুগে নারী স্বাধীনতাসহ সীরাত সম্পর্কিত অনেক গ্রন্থ অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন।তিনি একজন ফেকাহবিদ ছিলেন। এেেত্র তিনি সহীহ মুসলীমের মুকদ্দমা, ইসলামের সমাজ দর্শনসহ অনেক বই অনুবাদ ও সম্পাদনা করে যোগ্যতার স্বার রেখেছেন। দেশ বিদেশের বহু আলেম ওলামার সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। আমি দেখেছি সুদূর সুদান থেকে মাসলা মাসায়েল জানতে চেয়ে ফোন আসত। তাছাড়া ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ইউকে, আমেরিকা, সৌদি আরব, কুয়েত, মালয়েশিয়া, আরব আমিরাত, মিশর প্রভৃতি দেশের স্কলারদের সাথে আবদুল মান্নান তালিব সাহেবের মত বিনিময় হতো। ইউসুফ আল কারদাভী, মাওলানা ইউসুফ ইসলাহি, আহমদ তুতুনজি, নঈম সিদ্দিকী, খুররম জা মুরাদ অনেকের সাথে ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি ইসলামী ফেকাহর ওপর অসংখ্য প্রবন্ধ নিবন্ধ লিখেছেন। যা বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।তিনি ছিলেন আইনবিদ ও অর্থনীতিবিদ। ইসলামী আইন ও ইসলামী অর্থনীতির ওপর তার অগাধ পড়াশোনা ছিল। আমৃত্যু তিনি ইসলামিক ল’ রিচার্স সেন্টার ও লিগ্যাল এইডের সাথে যুক্ত ছিলেন। এখান থেকে প্রকাশিত গবেষণা পত্রিকা ‘ইসলামী আইন ও বিচার’-এর সম্পাদনার দায়িত্ব তিনিই পালন করতেন। মৃত্যুশয্যায় থেকেও তিনি এর শেষ সম্পাদকীয় লিখে গেছেন। ভুল সংশোধনসহ সম্পাদনার যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেছেন শেষ পর্যন্ত। প্রতিটি সংখ্যায় যে সম্পাদকীয় লিখে গেছেন পুস্তক আকারে প্রকাশিত হলে তা ইসলামী আইন শাস্ত্রের েেত্র পথ প্রদর্শকের ভূমিকা রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস। এছাড়া ‘ইসলামী আইন ও বিচার’-এর অনেক প্রবন্ধ তিনি নিজেই অনুবাদ করেছেন।তারপর তিনি ইসলামী ব্যাংকিং-এর ওপরও ব্যাপক পড়া লেখা করেছেন। অনুবাদ করেছেন, সুদ ও আধুনিক ব্যাংকিং, ইসলামী অর্থ ব্যবস্থার মূলনীতি, ইসলামের দৃষ্টিতে জীবন বীমা ইত্যাদি গ্রন্থ। সুদের ব্যাপারে তার একটায় বক্তব্য ছিল তা হচ্ছে, অর্থ লেনদেনের সময় বিশেষ করে আসল বাদে বাড়তি আদায়ের েেত্র ‘যা জুলুম তাই সুদ’। এর ওপর তিনি আমৃত্যু অনঢ় ছিলেন। বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থাকে তিনি ত্র“টিযুক্ত বলে মনে করতেন। এ ব্যাপারে বিভিন্ন সময় তিনি মতামত ব্যক্ত করেছেন। লিখেছেন প্রবন্ধ নিবন্ধ। আধুনিক ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর কয়েকটি প্রবন্ধ অনুবাদ করে তা ছাপার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি আজীবন সুদমুক্ত, শোষণমুক্ত, জুলুমমুক্ত সমাজ ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছেন। ইসলামিক ইকোনমিক্স রিচার্স ব্যুরোর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ইকোনমিক্স রিচার্স ব্যুরোর কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন।ছিলেন বিজ্ঞ ইতিহাসবিদ। ইতিহাসের খুটিনাটি বিষয়ে সুক্ষ্ম জ্ঞান রাখতেন। একেধারে প্রায় সাত বছর দৈনিক সংগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পাতা সম্পাদনা করেছেন। তখন তিনি মুসলিম ইতিহাসের স্বর্ণযুগ নিয়ে অজস্র প্রবন্ধ লিখেছেন। যার কয়েকটি পাণ্ডুলিপি তিনি তৈরি করে গেছেন। দু’একটি বই আকারেও প্রকাশিত হয়েছে। ‘সত্যের তরবারি ঝলসায়’ তার মধ্যে একটি।তিনি ছিলেন তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ববিদ। শেষ জীবনে আন্তধর্ম নিয়ে তাকে বেশ উদ্বিগ্ন দেখতাম। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে ওনার বেশ পড়াশোনা ছিল। প্রথম জীবনে রামায়ণ মহাভারত, গীতা, উপনিশদ পড়ে শেষ করেছিলেন। ‘বার্নাবাসের বাইবেল’ প্রথমে তার সম্পাদনাই ছাপা হয়েছিল। সম্প্রতি এ জেড এম শামসুল আলমের ‘হিন্দু ধর্ম ও ইসলাম’ বইটি আবদুল মান্নান তালিব সম্পাদনা করেছেন। ‘অন্তীম ঋষি’ নামে একটা গুরুত্বপূর্ণ বই তিনি সম্পাদনা করেছেন, যা ছাপার অপোয় আছে। প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ আসরার আলমের ‘ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইহুদি চক্রান্ত’ বইটি তিনিই অনুবাদ করেছেন।ইসলামী সাহিত্যের েেত্র ছিলেন পথ প্রদর্শক। ইসলামী সাহিত্য কি, কেন? এ বিষয়ে আমরা বাংলা ভাষাভাষিরা প্রথমে আবদুল মান্নান তালিব সাহেবের কাছ থেকেই একটা পরিপূর্ণ দিকনির্দেশনা পেয়েছি। ১৯৮৩ সালে ৭১ নিউ এলিফেন্ট রোডস্থ বাংলা সাহিত্য পরিষদের প্রথম সাহিত্য সভায় তার পঠিত প্রবন্ধ ছিল ‘ইসলামী সাহিত্য মূল্যবোধ ও উপাদান’। পরিপূর্ণ ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এটিই ইসলামী সাহিত্য সম্পর্কে বাংলা ভাষায় লিখিত প্রথম গবেষণামূলক প্রবন্ধ। পরে এটা ১৯৮৪ সালে বই আকারে প্রকাশিত হয়। সম্ভবত এটিই বাংলা সাহিত্য পরিষদের প্রথম প্রকাশনা। আমার দৃষ্টিতে এেেত তিনিই পথ প্রদর্শক।সর্বোপরি তিনি ছিলেন আপদমস্তক পরিপূর্ণ একজন উদার মনের সাহিত্যিক। তিনি প্রথম জীবনে অনেকের মতো কবিতা লেখার মাধ্যমে সাহিত্য চর্চা শুরু করেন। আবদুল মান্নান তালিব সাহেবের অসংখ্য কবিতা বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তখন ছাপা হয়েছে। নিজেই বলতেন যা দিয়ে কয়েকটি কবিতার বই হতো। কিন্তু তিনি কখনো কবি হতে চাননি। তাই হয়তো কবিতাগুলোকে গ্রন্থবদ্ধ করেননি। ছন্দ সম্পর্কে আবদুল মান্নান তালিব সাহেবের ছিল পরিপূর্ণ জ্ঞান। সে কারণে তিনি ছোট বড় অনেক লেখকের অজস্র কবিতার বই সম্পাদনা করে দিয়েছেন। আশ্চর্যের বিষয় এ জন্য তিনি কোনো প্রকার পারিশ্রমিক নেননি এবং সম্পাদক হিসাবে নিজের নামটিও ব্যবহার করেননি। এেেত্র তিনি বরাবরই বলতেন, সম্পাদক হিসেবে আমার নাম ব্যবহার করা হলে লেখককে ছোট করা হবে। শুধু কবিতার বই নয় শত শত গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধের বই তিনি সম্পদনা করে দিয়েছেন, কিন্তু নিজের নাম কোথাও লেখেননি। আমি দেখেছি অনেকে পীড়াপীড়ি করেছে নাম ব্যবহার করার জন্য, ভূমিকা লিখে দেবার জন্য। তবু তিনি অনুমতি দেননি। বলতেন, ভূমিকা লিখে দিলে সবাই তো জেনেই ফেলবে আমি এটা সম্পাদনা করেছি। বলতেন, একদল মুসলমান লেখক তৈরি আমার মিশন। যেহেতু তিনি অতিরিক্ত অন্তরাল পরায়ণ ছিলেন তাই তার সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে জানা হয়তো আমাদের পে কোনোদিনই সম্ভব হবে না। এখানে আবদুল মান্নান তালিবের সংপ্তি জীবন আলেখ্য তুলে ধরা হলো :জন্ম : আবদুল মান্নান তালিব ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে দণি চব্বিশ পরগণা জেলার মগরাহাট থানার অর্জুনপুর গ্রামে ১৫ মার্চ ১৯৩৬ সালে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম তালেব আলী মোল্লা, মাতা- মরহুমা মেহেরুন নেছা।শিা জীবন : আবদুল মান্নান তালিব কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫০ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। এইচএসচি পাস করেন ঢাকা বোর্ড থেকে ১৯৬৬ সালে। অতঃপর জামেয়া আশরাফিয়া, লাহোর থেকে দাওরা-ই-হাদিস বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং হাদিস শাস্ত্রের ওপর গভীর জ্ঞান অনুসন্ধান করেন। লেখাপড়ার প্রতি তিনি অন্যরকম আকর্ষণ অনুভব করতেন। বিশেষ করে নানাবিধ ভাষাশিার ব্যাপারে তাঁর আগ্রহ ও প্রচেষ্টা ছিল খুব বেশি।ফলে তিনি বাংলা, ইংরেজি, আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি এই ছয়টি ভাষায় বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। এ সকল ভাষা থেকে সাহিত্যসহ গবেষণাধর্মী অনেক গ্রন্থ তিনি অনুবাদ করছেন।কর্মজীবন : আবদুল মান্নান তালিবের কর্মময় জীবন শুরু হয় মূলত সাংবাদিকতার মাধ্যমে। দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাকি, মাসিক, ত্রৈমাসিকসহ বহু পত্রিকার সম্পাদনার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন। রচনা করেছেন মৌলিক গ্রন্থ, গবেষণা গ্রন্থ। বই সম্পাদনাও করেছেন প্রচুর। অনুবাদকর্মেও রয়েছে তার বিরাট ভূমিকা। তিনি ইসলামিক রিসার্চ একাডেমি ঢাকার রিসার্চ স্কলার ছিলেন ১৯৬৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত। রিসার্চ স্কলার ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টারের ১৯৭৫ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত। ১৯৮৭ সাল থেকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি বাংলা সাহিত্য পরিষদের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ঐতিহ্যিক ধারার সাহিত্য আন্দোলনে আবদুল মান্নান তালিবের রয়েছে পথিকৃতের ভূমিকা। তিনি আমাদের সাহিত্য সংস্কৃতিতে একজন শিক ও পথ প্রদর্শকের দায়িত্ব পালন করেছেন।আবদুল মান্নান তালিবের গ্রন্থসমূহ :মৌলিক গ্রন্থ : অবরুদ্ধ জীবনের কথা (১৯৬২), মুসলমানের প্রথম কাজ (১৯৭৫), বাংলাদেশে ইসলাম (১৯৭৯), ইসলামী সাহিত্য : মূল্যবোধ ও উপাদান (১৯৮৪), আমল আখলাক (১৯৮৬), ইমাম ইবনে তাইমিয়ার সংগ্রামী জীবন (১৯৮৭), ইসলামী আন্দোলন ও চিন্তার বিকাশ (১৯৮৮), সাহিত্য সংস্কৃতি ভাষা : ঐতিহ্যিক প্রোপট (১৯৯১), ইসলামী জীবন ও চিন্তার পুনর্গঠন (১৯৯৪), সত্যের তরবারি ঝলসায় (২০০০), আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জ ও ইসলাম (২০০১)।শিশু কিশোর সাহিত্য : সহজ পড়া (১৯৮২), ছোটদের ইসলাম শিা ১ম ভাগ (১৯৮০), ২য় ভাগ (১৯৮১), ৩য় ভাগ (১৯৮২), ইসলাম শিা ১ম ভাগ (১৯৭৬), ২য় ভাগ (১৯৭৬), এসো জীবন গড়ি ১ম ভাগ (১৯৭৫), ২য় ভাগ (১৯৭৫), পড়তে পড়তে অনেক জানা (২০০০), মা আমার মা (২০০১), আমাদের প্রিয় নবী (১৯৭৫), মজার গল্প (১৯৭৬), কে রাজা (১৯৮১), হাতিসেনা কুপোকাত (১৯৯০), আদাবুল আরারিয়া (১৯৮৪)।সম্পাদিত গ্রন্থ : আমাদের শিাব্যবস্থা (১৯৬৯), সহীহ্ আল বুখারী, ১ম খণ্ড (১৯৮২), সহীহ আল বুখারী ৩য় খণ্ড (১৯৯৬), রিয়াদুস সালেহীন ১ম খণ্ড (১৯৮৫), মুসলিম শরীফের মুকদ্দমা (১৯৮৬), নির্বাচিত গল্প (১৯৮৫), সত্য সমুজ্জ্বল (১৯৮১), রসূলের যুগে নারী স্বাধীনতা ১ম খণ্ড, ২য় খণ্ড ও ৪র্থ খণ্ড (১৯৯৫-২০০৪)।অনুবাদ সাহিত্য : খতমে নবুয়ত (১৯৬২,) পয়গামে মোহাম্মদী (১৯৬৭,) ইসলামের নৈতিক দৃষ্টিকোণ (১৯৬৪), ইসলামী রেনেসাঁ আন্দোলন (১৯৬৫), ইসলামের দৃষ্টিতে জীবন বীমা (১৯৬৬), ইসলামের সমাজ দর্শন (১৯৬৭), সুদ ও আধুনিক ব্যাংকিং (১৯৭৯), আত্মশুদ্ধির ইসলামী পদ্ধতি (১৯৭৬), আত্মশুদ্ধি কিভাবে (১৯৭৬), ভাষাভিত্তিক সাংস্কৃতিক জাহেলিয়াত (১৯৭৫), ইসলামী অর্থ ব্যবস্থার মূলনীতি (১৯৬৮), মুসলিম নারীর নিকট ইসলামের দাবি (১৯৮২), মহররমের শিা (১৯৭৭), ইসলামী আন্দোলন সাফল্যের শর্তাবলী (১৯৭৫), কুরবানির শিা (১৯৭৬), চরিত্র গঠনের মৌলিক উপদান (১৯৬৮), রাসায়েল ও মাসায়েল ২য় খণ্ড  (১৯৯১), ৩য় খণ্ড (১৯৯১), যরবে কলিম (কাব্য গ্রন্থ, ১৯৯৪), সীরাতে সরওয়ারে আলম ১ম খণ্ড (১৯৮১), রাসায়েল ও মাসায়েল ৩য় খণ্ড (১৯৯১), রাসূলের যুগে নারী স্বাধীনতা ৩য় খণ্ড (১৯৯৪), রিয়াদুস সালেহীন ২য় খণ্ড (১৯৮৬), ৩য় খণ্ড (১৯৮৬), ৪র্থ খণ্ড (১৯৮৭), ইরান বিপ্লব একটি পর্যালোচনা (১৯৮২), সহীহ আল বুখারী ৪র্থ খণ্ড (১৯৮২), তাফীমূল কুরআন ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭তম, ৮ম, ৯ম, ১০ম, ১১তম, ১২তম, ১৩তম ও ১৯তম খণ্ড (১৯৮৯-১৯৯৪), ভারত যখন ভাঙলো (২০০২), প্রত্যয়ের সূর্যোদয় (২০০৩), অপরাজিত (২০০৩)।সাময়িকী ও পত্র-পত্রিকা সম্পাদনা : সাময়িক পত্র ‘জিয়াউল ইসলাম’ সম্পাদনা (বার্ষিকী ১৯৫২, বীরভূম পশ্চিম বঙ্গ), সহ-সম্পাদক, উর্দু দৈনিক ‘রোজনামা তাসনীম’ (লাহোর ১৯৫৭-৫৯), সহ-সম্পাদক ‘দৈনিক ইত্তেদাহ’ ঢাকা (১৯৫৯-৬০), সম্পাদক ‘সাপ্তাহিক জাহানে নও’ (১৯৬২-৬৬), সম্পাদক ‘মাসিক পৃথিবী’ (১৯৬৯-৭১ ও ১৯৮১-৯৯), ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, ‘সাপ্তাহিক মীযান’ (কলিকাতা ১৯৭৩-৭৫) সম্পাদক, ‘ত্রৈমাসিক ও মাসিক কলম’ (১৯৭৭-৯৪) সম্পাদক শাহীন শিবির, দৈনিক সংগ্রাম (১৯৭০-৭১), ১৯৮৩ থেকে দৈনিক সংগ্রামের কলামিস্ট ও ফিচার এডিটর হিসেবে ছিলেন।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!